বাংলাদেশের সরকারি আমলাতন্ত্রের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি পিএসসি সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের স্বাক্ষর সংবলিত পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, চেয়ারম্যান পদে থাকা অবস্থায় তিনি সচিবালয়ে তাঁর ইস্তফাপত্রটি পেশ করেছেন। প্রশাসনিক নিয়ম ও নিয়মকানুন অনুসরণ করে চিঠিটি ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির পটভূমিতে তিনি মেয়াদের মাঝপথে এসে এই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশে সংঘটিত ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ক্ষমতার এই পটপরিবর্তনের জের ধরে ওই বছরের ৮ অক্টোবর পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের তৎকালীন সব সদস্য একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। উদ্ভূত প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ এবং বিসিএস পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি পরীক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পরের দিনই, অর্থাৎ ৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি সিভিল সার্ভিসে স্বচ্ছতা আনা, প্রশ্নফাঁসের অপবাদ দূর করা এবং বিভিন্ন ক্যাডারের আটকে থাকা লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার জটিলতা নিরসনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে এনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার জন্য তিনি একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছিলেন।
এত স্বল্প সময়ের মধ্যে পিএসসির শীর্ষ পদে আবারও এমন আকস্মিক রদবদল ও শূন্যতা তৈরি হওয়ায় দেশের আমলাতন্ত্র এবং লাখ লাখ চাকরিপ্রত্যাশী পরীক্ষার্থীর মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের চলমান প্রশ্ন সংস্কার ও নিয়োগ প্রক্রিয়া গতিশীল রাখার কাজ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও মনে করছেন শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকেরা। এখন সবার নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, কে হচ্ছেন পিএসসির পরবর্তী নতুন চেয়ারম্যান।

