খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এক নারী শিক্ষকসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ভাঁয়না ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেফতার হওয়া ওই নারী শিক্ষকের নাম আফরোজা শিখা, যিনি স্থানীয় মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ও জনসমাগমকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখা ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মথুরাপুর গ্রামে অভিযানে যায় সুজানগর থানা-পুলিশের একটি দল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী-সমর্থক ও তাদের দোসররা স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক ব্যবহার করে গ্রামবাসীকে বিভ্রান্ত করে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাকাত পড়ার কথা বলে বা পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীকে উসকে দেওয়া হয়।
এই উসকানিমূলক ঘোষণার পর পরই লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শত শত মানুষ পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। এতে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেনসহ দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ওসির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয় এবং বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনার পর পাবনা জেলা পুলিশ ও যৌথ বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারি কাজে বাধা, হামলা ও নাশকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সুজানগর থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর অপরাধীদের ধরতে মাঠে নামেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশের সদস্যরা।
পাবনা সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার পরপরই জড়িতদের চিহ্নিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপরই মথুরাপুর গ্রামে চিরুনি অভিযান চালিয়ে এই ১১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী। পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।