খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে পোষা পাখি মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের ভেতরেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। আপন ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছে বড় ভাই। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামে এই হূদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত কিশোরের নাম আল-আমিন (১৪)। সে ওই এলাকার জাফর আহমেদের ছেলে।
পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ বছর বয়সী ছোট ভাই বাবুর একটি পোষা পাখি ছিল। বুধবার সকালে একটি বিড়াল পাখিটিকে মেরে ফেলে। নিজের প্রিয় পোষা প্রাণটিকে হারিয়ে সকাল থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশু বাবু। সারাক্ষণ তার এই কান্না করা নিয়ে একপর্যায়ে বড় ভাই আল-আমিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আল-আমিন তাকে কান্না থামাতে বললে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা তীব্র রূপ নেয়। রাগ সামলাতে না পেরে আল-আমিন তার ছোট ভাইকে মারধর করে। এতে চরম ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে ১০ বছরের শিশু বাবু। সে ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি এনে আচমকা বড় ভাই আল-আমিনের বুকে আঘাত করে বসে।
ছুরির আঘাতে আল-আমিন গুরুতর রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল-আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং একজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো দিলশাদপুর গ্রামে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পার্বতীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। একটি পাখির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই শিশুর মধ্যে এমন ঘটনা ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাইয়ের আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কাণ্ড ঘটানো আসলেই বেদনাদায়ক। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।