খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নিজের বদলে অন্যকে (প্রক্সি) দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। ভেবেছিলেন, অভিনব উপায়ে সরকারি চাকরিটা এবার বোধহয় হয়েই গেল! কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ‘অফিস সহায়ক’ পদে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পেয়ে সচিবালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে ধরা পড়েছেন চার যুবক।
মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নথিপত্র যাচাইয়ের সময় তাদের এই জালিয়াতির বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃত চারজন হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. হালিম (রোল-১৯০০৪৪৮১), সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার (রোল-১৯০১৬৩৯১), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন (রোল-১৯০১১৯৩৩) এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির (রোল-১৯০১৯২৫৭)।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সে সময় ইন্টারভিউ বোর্ডে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ছবি তুলে ডিজিটাল ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখে। এরপর মেধা ও অন্যান্য যোগ্যতা বিবেচনা করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১ নম্বর কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের জন্য ডাকা হয়।
নির্ধারিত সময়ে অন্য সবার মতো ওই চার যুবকও অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে আসেন। তবে যোগদানের নথিপত্র ও প্রার্থী যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সামনে আসার পর তাদের শারীরিক ভাষা এবং কথাবার্তায় কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। সন্দেহ দূর করতে কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিক পরীক্ষার দিন তুলে রাখা ডিজিটাল ছবির সঙ্গে যোগ দিতে আসা এই চারজনের চেহারা মিলিয়ে দেখেন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দেখা যায়, পরীক্ষার দিন অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের চেহারার সাথে এই চার যুবকের চেহারার কোনো মিল নেই।
প্রযুক্তিগত প্রমাণের সামনে কর্মকর্তাদের জেরার মুখে একপর্যায়ে ভেঙে পড়েন ওই চারজন। তারা কর্মকর্তাদের কাছে অকপটে স্বীকার করেন যে, লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষাতেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্য দক্ষ ব্যক্তিদের (প্রক্সি দাতা) দিয়ে অংশ নেওয়ানো হয়েছিল। এ বিষয়ে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক করার জন্য তারা কাজ করছেন। প্রক্সি চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শাহবাগ থানা পুলিশ আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জালিয়াতি করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ যে এখন আর নেই, এই ঘটনাটি তারই একটি বড় প্রমাণ।