দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুটি পরিবর্তন ও সিদ্ধান্ত নিয়ে এল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যলয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের প্রথাগত লিখিত কিংবা মৌখিক ভর্তি পরীক্ষা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে। ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার শুরুতেই মানসিক চাপ ও ভর্তি যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত রাখতে লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম শ্রেণি ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য সকল শ্রেণিতে (দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত) আগের নিয়ম বহাল থাকছে, অর্থাৎ সেসব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন ও ভর্তি করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা প্রশাসনের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি নীতিমালার পরিবর্তনের পাশাপাশি বহুল প্রতীক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খবরও তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট একযোগে সারাদেশে প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক-প্রাথমিক পেরিয়ে প্রথম শ্রেণিতে উঠতে যাওয়া পাঁচ বা ছয় বছর বয়সী শিশুদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত চাপের ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ছিল। অভিভাবকরাও ছোট্ট সন্তানদের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে কোচিং সেন্টারের শরণাপন্ন হতেন এবং এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তেন। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শিশুদের ওপর একাডেমিক মানসিক চাপ লাঘব হবে এবং শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশের শুরুতেই বৈষম্যহীন ও সমান সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষিত হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুদীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং উৎকণ্ঠার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। শিক্ষাবোর্ডগুলোর সূত্র থেকে জানা গেছে, ফলাফল নির্ভুল ও দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে যাবতীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো।
ফল প্রকাশের নির্ধারিত দিন ১০ আগস্ট সকালে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বা শিক্ষা উপদেষ্টার হাতে ফলাফলের সার্বিক পরিসংখ্যান তুলে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, নির্দিষ্ট মোবাইল এসএমএস সার্ভিস এবং স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একযোগে ফল দেখা যাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আজকের এই জোড়া ঘোষণা দেশের শিক্ষা খাতের সার্বিক গতিচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একদিকে যেমন ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষার গোড়াপত্তনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে, অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে অপেক্ষারত লাখ লাখ তরুণ শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিকের পথে পা বাড়ানোর চূড়ান্ত পথ সুগম হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য