মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমান (৩৫) নামে এক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। হরিরামপুর-বালড়া সড়কের পিপুলিয়া এলাকায় ৬ আগস্ট বিকেলে দ্রুতগতির একটি ট্রাকের চাপায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার টেপড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি একটি সুপরিচিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণকল্যাণ ট্রাস্টে’ সিনিয়র কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মক্ষেত্র থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথেই কাল হয়ে দাঁড়ায় চালকের বেপরোয়া গতি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, মিজানুর রহমান তাঁর দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় গিয়েছিলেন। সারাদিনের কাজের ঝামেলা শেষ করে বিকেলে নিজের মোটরসাইকেলে চেপে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথিমধ্যে হরিরামপুর-বালড়া আঞ্চলিক সড়কের পিপুলিয়া পৌঁছালে বিপত্তি ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি চলন্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক তাঁর মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পিষে ফেলে। ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি।
বিকট শব্দের পর আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানুরকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালান। কিন্তু আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীনই ঘটনাস্থলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই এনজিও কর্মকর্তা।
খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহ মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুমিন খান দুর্ঘটনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক ট্রাকটিকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি চালক ও সহযোগীকে আটকের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে এবং স্বজনদের লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হঠাৎ মিজানুরের এমন অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টেপড়া গ্রামে তাঁর স্বজনদের মাঝে চলছে অঝোর কান্না ও শোকের মাতম। ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়কগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকা এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণেই এমন অকাল প্রাণহানি ঘটছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য