নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবাসে বাংলাদেশিদের জীবনের নিরাপত্তা, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ‘প্রবাসী বাংলাদেশি অধিকার সংস্থা (প্রবাস)’।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদার, নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত এবং বিদেশে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক, লেখক-চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা মনন বলেন, ‘প্রবাসে যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক বিচারাধীন রয়েছেন, তারা যেন ন্যায়বিচার পান, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।’
অ্যাক্টিভিস্ট ও সংগঠনের সদস্য সচিব আনন্দ কুটুম বলেন, সৌদিতে পাশবিক নির্যাতন সইতে না পেরে গত নয় মাসে দেশে ফিরেছেন ৯৮০ জন নারী কর্মী। কেউ কেউ ফিরেছেন অন্তস্বত্তা হয়ে। এদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সকল শিশুদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
চিকিৎসক ও ‘প্রবাস’-এর সমন্বয়ক তৃণা ইসলাম বলেন, দূতাবাসগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সাংবাদিক ও সংগঠনের গণমাধ্যম সমন্বয় হাসনাত কাদীর বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে এই দেশ চলে। দেশটা যেন রেমিট্যান্সখোর হয়ে না ওঠে। রাষ্ট্রকে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির সুষ্ঠু তদন্ত, অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির ক্ষেত্রে ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিপদে পড়লে প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সহায়তার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, আইনি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কাজের লক্ষ্যে গঠিত ‘প্রবাস’ জানিয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হবে।
‘বিদেশে শ্রমিকের নিরাপত্তা চাই’ ও ‘নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের জবাব চাই’ স্লোগানে এ কর্মসূচির সহ-আয়োজক ছিল গণতন্ত্র ও জবাবদিহিবিষয়ক দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক নেটওয়ার্ক ‘সাউথ এশিয়ান অ্যাকাউন্টেবিলিটি নেটওয়ার্ক ফর ডেমোক্রেসি (স্যান্ড)’। গবেষণা সহযোগী ছিল চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্কলারো’।


