খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
ইন্দোনেশিয়ার বালির উপকূলে ফেরি ডুবে অন্তত ৪৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ‘কেএমপি তুনু প্রতমা জয়া’ নামের ওই ফেরিটি বুধবার রাতে পূর্ব জাভার কেতাপাং বন্দর থেকে ছেড়ে যায়। ফেরিটি ৫০ কিলোমিটার দূরের বালির গিলিমানুক বন্দরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছাড়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই ফেরিটি ডুবে যায়।
ফেরিটিতে ৫৩ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রুসহ মোট ৬৫ জন ছিলেন। এ ছাড়া, এতে ২২টি যানবাহন ছিল। যানবাহনের মধ্যে ১৪টি বড় ট্রাক ছিল। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রবল ঢেউয়ের কারণে ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। অনেক যাত্রী কয়েক ঘণ্টা ঢেউয়ে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হয়েছেন।
বানিউয়াঙ্গি জেলার পুলিশ প্রধান রামা সামতামা পুত্র জানান, ‘আমরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান চলছে। ঢেউ অনেক বড় হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।’
এর আগে, ২০১৮ সালে সুলাওয়েসির উপকূলে একটি ফেরি ডুবে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। একই বছর সুমাত্রার তোবা লেকে আরেকটি ফেরি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৬৭ জন। এ ছাড়া ২০০৯ সালে তেরাতাই প্রাইমা নামের একটি ফেরি ডুবে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এদিকে, এবারের ফেরি দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ফেরিটির যান্ত্রিক ত্রুটি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়কারীরা। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক হতে বলেছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ