খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য সুখবর দিল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফ্রিল্যান্সার এবং ব্যক্তি পর্যায়ের বিভিন্ন সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করার লক্ষ্যে নতুন একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (২২ জুলাই) জারি করা এক বিশেষ সার্কুলারে ডিজিটাল সেবা খাতের আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদেশিক আয় গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং তা খরচের ক্ষেত্রে একাধিক নতুন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে প্রচলিত জটিল ডকুমেন্টেশনের ঘাটতি অনেকটাই দূর হবে। এখন থেকে ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক কাজের প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল যোগাযোগ কিংবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতেই তাদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে পারবেন। এর ফলে কাগুজে নথিপত্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে, যা মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করা পেশাজীবীদের বড় ধরনের স্বস্তি দেবে।
সার্কুলারে অর্থের সীমার ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স গ্রহণ করা যাবে। এর বাইরে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি একক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় দেশে আনা সম্ভব হবে। তবে শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত সময়ের ভেতরে এই অর্থ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংকিং সুবিধাকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক ব্যবহারযোগ্য ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যু করার বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে নির্দেশনায়। একই সঙ্গে দেশে প্রচলিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহার পরিধি বৃদ্ধি করে অর্থ উত্তোলন ব্যবস্থা বহুগুণ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার ও আইটি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে জমা রাখতে পারবেন। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকরা জমা রাখতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। এই জমানো অর্থ তারা পরবর্তীতে বিদেশ ভ্রমণ, আন্তর্জাতিক সেবা ফি কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর এই পদক্ষেপে বেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তাদের মতে, কাগুজে জটিলতা কমার কারণে তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা এখন থেকে ব্যাংকিং বা বৈধ চ্যানেলে টাকা আনতে বেশি উৎসাহিত হবেন। এতে যেমন সেবা রপ্তানির জাতীয় পরিসংখ্যানে স্বচ্ছতা ফিরবে, তেমনি হুন্ডি বা অবৈধ পথ থেকে সরে এসে দেশে বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।