রাজশাহীর দুর্গাপুরে কনের বাড়ি গিয়ে দুপুরের খাবার কম পড়ার অভিযোগ তোলেন বরযাত্রীরা। এ নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া বাধে। পরে ঝামেলার মধ্যেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কনেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান বর।
সেদিন রাতে এ ঘটনা ঘিরে জামাতা ও শ্বশুরের মধ্যে ফোনে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর কনের বাবা, চাচা ও ফুফু জামাতার বাড়িতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালায় জামাতা ও তাঁর স্বজনরা—এমন অভিযোগ তুলেছে কনেপক্ষ।
গতকাল শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে দুর্গাপুরের পৌর এলাকার শালঘরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার ইয়াদ আলীর ছেলে প্রবাসী বেলাল হোসেন (২৭) বিয়ে করেন দেবীপুর গ্রামের ছফির বাবুর মেয়েকে। দুপুরে প্রায় ১৬০ জন বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়ি গেলে বৃষ্টির মধ্যে খাবার পরিবেশন চলাকালে বরপক্ষ খাবার কম পড়ার অভিযোগ তোলে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া বাঁধলেও কোনোভাবে পরিস্থিতি সামলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
পরে রাতে ফোনে জামাতা বেলাল ও শ্বশুর ছফিরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর ছফির, তাঁর ছোট ভাই রাজু আহমেদ ও বোন মুর্শিদা জামাতার বাড়িতে গেলে সেখানে আবারও ঝগড়া বাঁধে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসময় জামাতা বেলাল রাজু আহমেদকে কিল-ঘুষি মারেন এবং শ্বশুর ছফির ও ফুফুশাশুড়ি মুর্শিদাকে মারধর করে আটকে রাখেন বরপক্ষের লোকজন।
স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে রাত ১১টার দিকে সালিস বসানো হয়। তবে সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং কনেপক্ষের লোকজনকে আবারও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
হাসপাতালে ভর্তি কনের বাবা ছফির বলেন, ‘বিয়ের রাতে আমার মেয়েকে জামাইয়ের বাড়িতে দেখতে এলে তারা আমাদের মারধর করে। পরে সালিস বৈঠক বসলে সেখানেও আমাদের মারধর করা হয়। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।’ এদিকে ঘটনার পর থেকে কনেসহ পালিয়েছেন বর বেলাল ও তাঁর বাড়ির লোকজন।
জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অবগত আছি। পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। দুই পক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ



