বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুলাদী থানা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থিত হাজী টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম মুলাদী সদর ইউনিয়নের খালাসিরচর গ্রামের বাসিন্দা তসলিম হাওলাদারের ছেলে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিয়াম ভবনটির সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ ভবনের ছাদে অবস্থান করেন। প্রায় ১০ মিনিট সেখানে থাকার পর বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা তসলিম হাওলাদার জানান, বুধবার দুপুরে মুলাদীতে ব্যক্তিগত কাজ আছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সিয়াম। তবে কী কারণে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত নন। ছেলের মৃত্যুর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি বলেও জানান তিনি।
ভবনটির মালিক ওমর ফারুক বলেন, ভবনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, সিয়াম নিজেই ছাদে উঠে নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন। তবে তিনি কেন ওই ভবনটিকে এ ঘটনার জন্য বেছে নিয়েছেন, তা তাঁদের জানা নেই।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম সোহেল রানা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে যুবককে নিজে থেকে ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি কয়েকবার এ ধরনের চেষ্টা করেন। প্রতিবারই কিছুটা এগিয়ে আবার ফিরে আসেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেন।
ওসি আরও জানান, সিয়ামের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
সিয়ামের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী পরিস্থিতিতে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


