খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
আকাশপথে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার সাথে বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ১৬ হাজার ৭৮০ কিলোমিটার। ভৌগোলিক এই বিশাল ব্যবধান এবং সংস্কৃতির ভিন্নতা সত্ত্বেও ফুটবলের প্রতি টান এই দুই দেশকে এক সুতোয় বেঁধেছে। আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় যখন কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে মাঠ কাঁপাতে নামবেন লিওনেল মেসিরা, তখন এই হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব যেন নিমিষেই মিলিয়ে যাবে। কারণ, আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি জাদুকরী মুহূর্তের সঙ্গী হতে কোটি কোটি বাংলাদেশী সমর্থক টেলিভিশনের পর্দার সামনে গলা ফাটাবেন।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের এই নিঃশর্ত ভালোবাসা আর সীমাহীন উন্মাদনা গভীরভাবে স্পর্শ করেছে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। সুদূর বাংলাদেশের এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চান তিনি। আজ রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বাংলাদেশী সমর্থকদের জন্য এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আজকের ম্যাচে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের মানুষকে খুশির জোয়ারে ভাসানোই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বাংলাদেশকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। ৪৮ বছর বয়সি এই মাস্টারমাইন্ড কোচ বলেন:
“বাংলাদেশের মানুষ সব সময় আমাদের দারুণ সব চমক দেয়। ভৌগোলিক দিক থেকে এত দূরে থেকেও তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য ও অসাধারণ এক অনুভূতি। নিজের দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশের মানুষকে আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল জার্সি পরে উল্লাস করতে দেখাটা দারুণ গর্বের। হৃদয় নিংড়ানো এই সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
স্কালোনি আরও যোগ করেন, মাঠে যখন তাঁর দল খেলে, তখন তাঁরা শুধু আর্জেন্টিনার মানুষের কথাই ভাবেন না; বরং সুদূর বাংলাদেশের ভক্তদের কথাও মাথায় রাখেন। বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের ভালোবাসার মর্যাদা দিতেই আজ রাতে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চান তাঁরা।
শুধু কোচ লিওনেল স্কালোনিই নন, আর্জেন্টিনার গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বুকেও রয়েছে বাংলাদেশের জন্য গভীর ভালোবাসা। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া এই গোলরক্ষক এখানকার মানুষের আতিথেয়তা ও ফুটবল উন্মাদনা নিজের চোখে দেখে গেছেন।
বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোবাসার কথা স্মরণ করে মার্তিনেজ বলেন, “বাংলাদেশ এবং ওখানকার ফুটবল পাগল সমর্থকদের আমি মন থেকে ভালোবাসি। আমাদের জন্য তাদের পাগলামি আসলেই অন্য স্তরের। আমি বাংলাদেশে গিয়ে নিজ চোখে তাদের এই আবেগ দেখেছি। আমার তো মনে হয়, হৃদয়ের দিক থেকে তারা সবাই আসলে একেকজন আর্জেন্টাইন।”
আজকের সেমিফাইনাল ঘিরে ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানগুলো এখন মেতে উঠেছে ফুটবল আড্ডায়। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলও ভক্তদের এই বিশাল সমর্থনকে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে। এখন দেখার বিষয়, আটলান্টার সবুজ মাঠে ইংলিশ বাধা পেরিয়ে স্কালোনির শিষ্যরা বাংলাদেশী ভক্তদের কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের আনন্দ উপহার দিতে পারেন কি না।