বাউফলে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অর্ধশত, উত্তপ্ত জনপদ

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। উপজেলার দুর্গম নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত পরবর্তীকালে উপজেলা সদরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও হামলা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলামের (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা) সমর্থনে রবিবার সকালে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে দুপুর ১টার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক হামলার শিকার হয়।

অভিযোগ উঠেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হাওলাদার ও শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জামায়াতের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হন। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।


আহতদের বিবরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আনিচুর রহমান ও সেক্রেটারি মো. আমিনুল ইসলামসহ দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী রয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত ও চিকিৎসাধীনদের সংক্ষিপ্ত তালিকা:

ক্যাটাগরি সংখ্যা/নাম বর্তমান অবস্থা
মোট আহত ৫০ জন (প্রায়) প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভর্তি
হাসপাতালে ভর্তি ২৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন
উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ ৩ জন (লিয়া জাহান, জামাল মৃধা, দেলোয়ার হোসেন) বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত
উল্লেখযোগ্য আহত নেতা আনিচুর রহমান ও মো. আমিনুল পর্যবেক্ষণে রয়েছেন

উপজেলা সদরে উত্তেজনা ও থানা অবরোধ

চন্দ্রদ্বীপের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল পৌনে চারটার দিকে বাউফল উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত। ওই সময় বিএনপির এক সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যাতে আরও ১০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জামায়াতের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা বাউফল থানার সামনের সড়ক অবরোধ করেন। তারা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রত্যাহারের দাবিতে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্লোগান দিতে থাকেন। বর্তমানে উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ

পটুয়াখালী-২ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির সহিদুল আলম তালুকদার এবং জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলামের মধ্যে। নির্বাচনের আগে এই দুই পক্ষের সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।