খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম আজ যেন হিমালয়ের পাদদেশের কোনো এক জনপদে পরিণত হয়েছিল। সমুদ্রবেষ্টিত এই নগরীতে নেপালের কোনো সমুদ্র নেই ঠিকই, কিন্তু গ্যালারি ভর্তি হাজার হাজার নেপালি সমর্থক তাদের লাল-নীল পতাকায় গ্যালারিকে এক নীল সমুদ্রে রূপান্তর করেছিলেন। সেই গর্জনের সামনে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল নেপাল। তবে শেষ মুহূর্তের স্নায়ুচাপে স্যাম কারেনের অভিজ্ঞ বোলিংয়ের কাছে ৪ রানের আক্ষেপে পুড়তে হলো হিমালয়ের দেশটিকে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ওয়াংখেড়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ইনিংসের প্রথম বলেই স্পিনার শের মাল্লার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফিল সল্ট। তবে তিনে নামা জ্যাকব বেথেল ও জস বাটলার সেই ধাক্কা সামাল দেন। বেথেল মাত্র ২৮ বলে ৫৫ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। এরপর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ৩১ বলে ৫৩ রান করে দলের সংগ্রহকে শক্ত ভিত্তি দান করেন।
ইনিংসের শেষ দিকে উইল জ্যাকসের বিধ্বংসী ১৮ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসটিই মূলত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। নেপালি পেসার করণ কেসির শেষ ওভারে তিনটি বিশাল ছক্কায় ২১ রান তুলে ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেন জ্যাকস।
এক নজরে দুই দলের স্কোরকার্ড:
| বিভাগ | ইংল্যান্ড | নেপাল |
| মোট রান | ১৮৪/৭ (২০ ওভার) | ১৮০/৬ (২০ ওভার) |
| সর্বোচ্চ রান | জ্যাকব বেথেল (৫৫) | দীপেন্দ্র সিং ঐরী (৪৪) |
| সেরা বোলার | লিয়াম ডসন (২/২১) | দীপেন্দ্র সিং ঐরী (২/২৩) |
| ফলাফল | ইংল্যান্ড ৪ রানে জয়ী | – |
১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপাল শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে। ওপেনার কুশল ভুরতেল ২৯ রান করে বিদায় নিলেও তৃতীয় উইকেটে রোহিত পৌডেল ও দীপেন্দ্র সিং ঐরী ৫৪ বলে ৮৪ রানের এক অনবদ্য জুটি গড়েন। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির মালিক ঐরী ২৬ বলে ৪৪ রান করে যখন স্যাম কারেনের বলে আউট হন, তখন নেপাল কিছুটা চাপে পড়ে যায়। এরপর অধিনায়ক পৌডেলও (৩৯) দ্রুত বিদায় নিলে জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে আসে।
ঠিক তখনই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে ২৫ বছর বয়সী লোকেশ বামের। নেপালকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার মূল কারিগর ছিলেন তিনিই। জফরা আর্চার ও লুক উডকে একের পর এক বাউন্ডারি মেরে শেষ ওভারে জয়ের সমীকরণ ১০ রানে নামিয়ে আনেন লোকেশ। কিন্তু অভিজ্ঞ স্যাম কারেন শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান খরচ করে নেপালকে থামিয়ে দেন ১৮০ রানে। ২০ বলে ৩৯ রানের এক অপরাজিত কিন্তু ট্র্যাজিক ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন লোকেশ।
ম্যাচ হারলেও নেপাল আজ ক্রিকেট বিশ্বের হৃদয় জয় করেছে। ওয়াংখেড়ের গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের উন্মাদনা আর মাঠের লড়াই প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ব ক্রিকেটে এখন আর কোনো দলই ছোট নয়। ইংল্যান্ড তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিলেও, নেপালের স্পিন আক্রমণ এবং মিডল অর্ডারের ব্যাটিং সামর্থ্য এই বিশ্বকাপে বড় কোনো অঘটনের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল।