খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত আসন্ন চার জাতি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দল। স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবল কোচ মারুফুল হককে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ঘরোয়া ফুটবলের প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করা মারুফুল হক লিগ শেষ করে জাতীয় দলের ডাগআউটে যোগ দেবেন।
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশন গত জানুয়ারি মাসে তাদের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই চার জাতি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র প্রেরণ করে। বাফুফে সেই আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া প্রদান করলেও টুর্নামেন্টটিতে সিনিয়র জাতীয় দলের পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মূলত তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের জন্য জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মালদ্বীপের মাটিতে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। স্বাগতিক মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ ছাড়াও এই টুর্নামেন্টের অন্য দুই অংশগ্রহণকারী দেশ হলো দক্ষিণ এশিয়ার আরও দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আঞ্চলিক ফুটবলের মানোন্নয়ন এবং দেশগুলোর পারস্পরিক ফুটবলীয় সম্পর্ক দৃঢ় করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের একমাত্র এএফসি প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ মারুফুল হককে এই দলের দায়িত্ব প্রদান করা বাফুফের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মারুফুল হক বর্তমানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। চলমান ফুটবল লিগের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ মে লিগের খেলা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঘরোয়া লিগের ব্যস্ততা শেষ হওয়ার পরপরই তিনি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অনুশীলনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং দলের সাথে মালদ্বীপ সফর করবেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন মেয়াদে জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলের সাথে কাজ করে সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নিয়েছিল ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে। সেই টুর্নামেন্টে দলটির প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন বাফুফের বর্তমান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। তবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই টুর্নামেন্টে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেননি। ভিয়েতনাম পৌঁছানোর পর প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় সাইফুল বারী টিটু বাছাইপর্বের কোনো ম্যাচেই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দলকে নির্দেশনা দিতে পারেননি। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার মারুফুল হকের অধীনে দলটিকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাফুফে।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে মালদ্বীপ, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—চারটি দলই একে অপরের পরিচিত প্রতিপক্ষ। দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যা টুর্নামেন্টটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
১. প্রতিভা অন্বেষণ: অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সিনিয়র জাতীয় দলের জন্য যোগ্য বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। ২. আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের ফুটবলাররা বিদেশের মাটিতে পাকিস্তান ও মালদ্বীপের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ম্যাচ এক্সপোজার পাবে। ৩. দক্ষিণ এশীয় আধিপত্য: সাফ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার লড়াইয়ে এই টুর্নামেন্টটি একটি প্রস্তুতির ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, ঘরোয়া লিগ ২৩ মে শেষ হওয়ার পর স্বল্প সময়ের জন্য একটি আবাসিক ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। মারুফুল হকের নির্দেশনায় বাছাইকৃত ফুটবলারদের নিয়ে এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। যেহেতু হাতে সময় কম, তাই লিগে ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। ১ জুন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই দল মালদ্বীপে পৌঁছাবে।
উপসংহারে বলা যায়, মালদ্বীপের এই চার জাতি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের যুব ফুটবলের জন্য একটি বড় সুযোগ। মারুফুল হকের মতো কৌশলী কোচের অধীনে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোর বিপক্ষে কেমন পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের এই লড়াই বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।