খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই এপ্রিল ২০২৬, ১:১৮ এএম
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীর গোপন শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মেঘনা নদীর তীরবর্তী নির্জন এলাকায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই শপথ গ্রহণের বিষয়টি তিন দিন পর সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভিডিও আকারে প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়ে এই গোপন সভা ও শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে জনসমাগম এড়িয়ে নির্জন এই স্থানটিকে বেছে নেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রিয়াদ ভাণ্ডারী প্রধান নেতৃত্ব প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, শতাধিক নেতাকর্মী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শপথ পাঠ করছেন। শপথের বয়ানে অংশগ্রহণকারীরা অঙ্গীকার করেন যে, তাঁরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। একই সাথে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং তাঁর রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। শপথ গ্রহণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ সহ দলীয় বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানটি গত শুক্রবার গোপনে সম্পন্ন হলেও এর প্রায় তিন দিন পর সোমবার বিকেল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ভিডিওটি ভাইরালের পর কমলনগরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনেকেই এই ভিডিওটি শেয়ার করে সংহতি প্রকাশ করছেন, আবার বিরোধী শিবিরের অনেকেই একে আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমার নজরে এসেছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের গোপন কর্মসূচির খবর ছড়িয়ে পড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাঁরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
গোপন এই শপথ অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীতে ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশ এই ঘটনাটিকে কীভাবে দেখছে বা কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ কয়েক মাস পর তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রকাশ্য শপথ দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কমলনগর উপজেলার মতো মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা রাজনৈতিক মেরুকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি:
| বিষয় | তথ্য |
| স্থান | মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর, চরকালকিনি ইউনিয়ন, কমলনগর। |
| সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৮:৩০ মিনিট। |
| মূল নেতৃত্ব | জহিরুল ইসলাম রিয়াদ ভাণ্ডারী (স্থানীয় যুবলীগ নেতা)। |
| অংশগ্রহণকারী | আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী। |
| প্রধান উদ্দেশ্য | শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্দোলনের শপথ। |
| ভিডিও ভাইরালের তারিখ | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার)। |
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীর তীরের নির্জনতা ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলীয় অস্তিত্ব প্রমাণের প্রচেষ্টা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির আওতায় আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ভিডিওটিতে অংশগ্রহণকারী অন্যদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে স্থানীয় অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য