খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ইরান কৌশলগত চাপ সৃষ্টি ও ‘চালাকি’ করার চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোলেও ইরানের পক্ষ থেকে দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পুনরাবৃত্ত হুমকিকে তিনি ‘পুরনো অভ্যাস’ হিসেবে আখ্যা দেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলোচনা যথেষ্ট ভালোভাবে এগোচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে ইরান কিছুটা অতিরিক্ত চালাকি করছে। গত প্রায় ৪৭ বছর ধরেই তারা এমন আচরণ করে আসছে।” তিনি আরও বলেন, “তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু এভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করা সম্ভব নয়।”
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করে। ফলে এই পথ সামান্য সময়ের জন্যও বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
নিচে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ভৌগোলিক অবস্থান | পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল |
| দৈনিক তেল পরিবহন | বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০% |
| সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ | ইরান, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত |
| গুরুত্ব | বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান রুট |
ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেও তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের কর্মকাণ্ডে অতীতে বহু মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তার ভাষায়, “আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি, তবে আমাদের অবস্থান খুবই কঠোর। তারা বহু মানুষকে হত্যা করেছে। আমাদের অনেক নাগরিক তাদের কারণে প্রাণ হারিয়েছে।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে এ ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে দিনের শেষ নাগাদ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এতে করে উভয় দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা কিংবা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং পারস্পরিক অবস্থানের ওপর।