খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১:৪৯ পিএম
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ ও রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। দগ্ধদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের অধিবাসী শাহ আলম হাওলাদারের বসতবাড়িতে এই বিকট বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই সকালে গৃহস্থালির কাজের প্রস্তুতি চলছিল। হঠাৎ শাহ আলম হাওলাদারের ঘরের কোলঘেঁষে রাখা বালুর বস্তার পাশ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের আগুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, তাঁর মেয়ে ইতি আক্তার এবং নাতি ফাহিম গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন।
ঘটনার আকস্মিকতায় ঘরে থাকা অন্যান্য সদস্য ও আশপাশের বাসিন্দারা মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, শরীর ও পরনের পোশাকে আগুন ধরে গেলে যন্ত্রণায় দগ্ধরা দ্রুত বসতঘরের সামনে থাকা তুলাতলা নদীতে গিয়ে ঝাঁপ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা নদী থেকে তাঁদের উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তাঁদের শরীরের অধিকাংশ স্থান ও পরনের পোশাক মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।
শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল হোসেন জানান:
“আমাদের ঘরের পাশে রাখা বালুর বস্তার মধ্য থেকেই মূলত বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই মা, বোন ও ভাগিনার শরীরে আগুন ধরে যায়। যন্ত্রণায় তারা সামনের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেয়। আমরা কোনো শত্রুতার বিষয়ে বলতে পারছি না এবং এই বিস্ফোরক কোথা থেকে এলো বা কীভাবে এখানে রাখা হলো, সে সম্পর্কে আমাদের কিছুই জানা নেই।”
বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে দগ্ধ তিনজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে অত্যন্ত নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগুনে দগ্ধদের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
ঘটনার পরপরই এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবরের তীব্রতা বিবেচনা করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থল কর্ডন করে রাখে এবং তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নানা আলামত সংগ্রহ করে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে কী ধরনের বিস্ফোরক বা রাসায়নিক বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক, সামাজিক বা কোনো অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, কিংবা বোমাটি কারা ও কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখেছিল—তা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
বর্তমানে দুধলমৌ গ্রাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করেছে। দ্রুতই তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে থানা প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্তব্য