খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১:২৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধের মেঘ কাটানোর লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি জানান, উভয় পক্ষের সম্মতি ও উদ্যোগের ভিত্তিতে নির্ধারিত সোমবার বিকেল থেকেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী এই সম্ভাব্য বৈঠক বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা হামলা চালানোর প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের তিন আঞ্চলিক পরাশক্তি—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের শীর্ষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীদের আকস্মিক ও বিশেষ অনুরোধে তিনি ওই সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এই মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, ওয়াশিংটন-তেহরান সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নেবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের এমন দাবির পর ইরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিষয়টি আরও জটিল রূপ নেয় যখন ইরানের আধা-সরকারি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি তেহরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে। তাদের মতে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে ইরান কোনো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে কোনো প্রকার অনুরোধ পাঠায়নি। তারা স্পষ্ট করে জানায়, বাহ্যিক কোনো চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে নতি স্বীকার করা তেহরানের পররাষ্ট্রনীতির অংশ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে পারস্পরিক এই অবিশ্বাস ও উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জটিলতা, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরান বহু বছর ধরেই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়।
সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার এই নতুন চেষ্টা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে এখনও গভীর অনিশ্চয়তা রয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় আলোচনার জোর দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, সোমবারের এই সম্ভাব্য আলোচনা সত্যিই ফলপ্রসূ কূটনৈতিক সমঝোতায় রূপ নেয় নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় ভারী হয়ে ওঠে—সেদিকেই এখন নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।
মন্তব্য