‘দেশকে অথৈ সাগরে ফেলেছেন ড. ইউনূস’: ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও বাস্তবতা

দেশে রাজনৈতিক রূপান্তর ও ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল্যায়ন নিয়ে জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় দেশের একদল শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট অভিযোগ—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের অস্থিরতা, নীতিগত অস্পষ্টতা এবং বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশের অভাবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিতে পড়ে। তাঁদের মতে, ড. ইউনূস অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করার বদলে দেশকে এক গভীর অস্থিতিশীলতা তথা ‘অথৈ সাগরে’ ভাসিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এই কঠোর ও সরাসরি অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন উক্ত আলোচনা সভার প্রধান অতিথি এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। ব্যবসায়ীদের মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাহীন আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূস কোনো অবস্থাতেই স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেননি কিংবা সংকট থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাননি। ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ভাষ্যমতে, বিদায়ী সরকারকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না দেওয়ার জন্য একশ্রেণীর অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ক্রমাগত আন্দোলন, একাধিক পেশাজীবী ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ ঘেরাওয়ের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে বাধ্য হয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তাদের কার্যক্রমের সমাপ্তি টানতে হয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এক ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক সংস্কারসাধন ও দেশে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটানো। সেই ধারায় দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনার পর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পর্যায়ে সফলভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে গণরায়প্রাপ্ত নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদায় নেয় এই প্রশাসন।

তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হলেও, বিদায়ী প্রশাসনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভূমিকা নিয়ে এখন তীব্র বাদানুবাদ চলছে। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে শিল্প খাতের স্থবিরতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগের মন্দা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি, যার মাশুল এখন ব্যবসা-বাণিজ্য খাতকে দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সাবেক প্রশাসনের প্রতিনিধিদের দাবি—এমন একটি অস্থিতিশীল ক্রান্তিকালে সুষ্ঠু নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনাই ছিল তাঁদের প্রধান জাতীয় দায়িত্ব। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও অর্থনৈতিক জটিলতা বর্তমানে দেশের নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নাগরিকদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।