খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আঞ্চলিক সড়কের পাশে গড়ে ওঠা একটি স্থানীয় বাজারের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই রণক্ষেত্রে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের অন্তর্গত ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুপাশে অবস্থিত একটি বাজারকে কেন্দ্র করে পাশ্ববর্তী আকবরনগর এবং মিরারচর গ্রামের মানুষের মধ্যে বিগত প্রায় ৩০ বছর ধরে সীমানা ও নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ বাজারটিকে নিজেদের এলাকার নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছিল, অন্যদিকে অপর পক্ষও সমপরিমাণ শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে।
বিগত কয়েক দিন ধরেই এই নাম কেন্দ্রিক বিরোধকে ঘিরে উভয় গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উভয় পক্ষের শত শত লোক লাঠিস্তোটা, ঢাল-সরকি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ঘটনায় নিহতের পরিচিতি:
সংঘর্ষে প্রাণ হারানো যুবকের নাম মাসুদ মিয়া (৩০)। তিনি মিরারচর গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। সংঘর্ষের সময় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই বা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন লোক আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরেই দেশীয় অস্ত্রের আঘাত ও মারাত্মক জখম রয়েছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা: আহতদের অধিকাংশকে স্থানীয় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উন্নত চিকিৎসা: আঘাত গুরুতর হওয়ায় কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল থমকে দাঁড়ায়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের বিশাল একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং তা ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আঞ্চলিক সড়কে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।