খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
তিন বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জাদুকরি সেঞ্চুরির দেখা পেলেন জস বাটলার। তাঁর এই বিধ্বংসী ও অনবদ্য ইনিংসের ওপর ভর করে শক্তিশালী ভারতকে ৫৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। শনিবার সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচে এই দাপুটে জয়ের সুবাদে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করল স্বাগতিকরা। এই চিরস্মরণীয় জয়ের মধ্য দিয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানও নিজেদের দখলে নিল ইংলিশরা।
ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা সাদা বলের এই ব্যাটসম্যান ৩৫ বছর বয়সেও এদিন মাঠে ছিলেন রুদ্রমূর্তিতে। ভারতীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে আটটি বিশাল ছক্কার সাহায্যে তিনি খেলেন ১৩১ রানের এক ঝড়ো ইনিংস। নতুন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ২৩৩ রানের এক অবিচ্ছিন্ন মহাকাব্যিক জুটি গড়েন বাটলার, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড। ব্রুক নিজে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ৯৫ রানে অপরাজিত থাকেন। দুই টপ অর্ডার ব্যাটারের তাণ্ডবে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেটে ২৫৭ রানের পাহাড়সম পুঁজি তোলে স্বাগতিকরা, যা এই সংস্করণে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
ম্যাচের প্রথম ছক্কাটি আসে বাটলারের ব্যাট থেকে, মিড অনের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত এক শটে তিনি নিজের মনোভাব স্পষ্ট করেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত ভিন্ন দিকে, যদি শিবম দুবের হাতে ৩ রানের মাথায় হ্যারি ব্রুকের সহজ ক্যাচটি মাঠে না পড়ত। জীবন পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক। প্রিন্স যাদবের ওভারে পরপর দুটি ছক্কা মেরে তিনি ভারতীয় ফিল্ডারদের ভুলের চড়া মূল্য উসুল করেন।
এদিকে বাটলার মাত্র ৫১ বলে নিজের শতক পূর্ণ করেন। অক্ষর প্যাটেলের বলকে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে সীমানা পার করে সেঞ্চুরির উল্লাসে মাতেন তিনি। সেঞ্চুরির পরও তাঁর ব্যাট শান্ত হয়নি। শিবম দুবের বলে পরপর দুটি ছক্কা মারার পর অবশেষে মিড অফে শ্রেয়াস আইয়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাটলার। সাজঘরে ফেরার আগে তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ১৩১ রান। অন্য প্রান্তে ৯৫ রানে অপরাজিত থেকে যান অধিনায়ক ব্রুক।
২৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। সূর্যবংশীর পরিবর্তে এই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া সঞ্জু স্যামসন জশ টঙের বলে দুটি ছক্কা মেরে আশা জাগালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। স্যাম কারানের প্রথম বলেই জ্যাকব বেথেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ২৭ রানে ফেরেন তিনি। এরপর তৃতীয় উইকেটে ইশান কিষানের সঙ্গে ৫৫ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তবে ভারতীয় অধিনায়ককে আউট করে এই জুটি ভাঙেন স্পিনার লিয়াম ডসন।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত পঞ্চাশ রান পূর্ণ করা ইশান কিষানকে ফেরান অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার আদিল রশিদ। ডিপ মিডউইকেট থেকে দীর্ঘ পথ দৌড়ে এসে ফিল সল্ট যেভাবে কিষানের দুর্দান্ত ক্যাচটি লুফে নেন, সেখানেই কার্যত শেষ হয়ে যায় ভারতের অলৌকিক জয়ের সব আশা। মিডল অর্ডারে তিলক ভার্মা একাই লড়াই চালিয়ে ৫৩ রান করেন, তবে তিনিও শেষ পর্যন্ত বাটলারের গ্লাভসে ধরা পড়েন। ব্যাটসম্যান হিসেবে আলো ছড়ানোর পর উইকেটকিপার হিসেবেও স্মরণীয় এই ম্যাচে মোট তিনটি ক্যাচ নেন জস বাটলার। নির্ধারিত ওভার শেষে ভারতের ইনিংস ২০১ রানে ৮ উইকেটে থমকে যায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে এটি ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম দাপুটে সিরিজ জয় হিসেবে গণ্য হবে।
টি-টোয়েন্টি অধ্যায়ের সফল সমাপ্তির পর এবার আগামী মঙ্গলবার থেকে বার্মিংহামে শুরু হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ইতিমধ্যে ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণ টেস্ট ও ক্ষুদ্রতম সংস্করণ টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির জন্য ইংল্যান্ডের মাটিতে এটাই হতে পারে শেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সফর। ফলে ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে ভারত।