জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে ১১ তলার জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এক নারী। আগুনের তীব্র শিখা ও ধোঁয়া থেকে আত্মরক্ষায় তিনি উঁচুতলার জানালার কার্নিশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিচে ৯ তলা পর্যন্ত উদ্ধারকারী দলের একটি ক্রেন পৌঁছাতে পারলেও ওই নারী ছিলেন আরও দুই তলা ওপরে। সেখান থেকেই সাহস সঞ্চয় করে নিচে থাকা ফায়ার ফাইটারের উদ্ধারকারী বাস্কেটে তিনি লাফ দেন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীর হাতে অলৌকিকভাবে রক্ষা পান। রোমহর্ষক এই উদ্ধার অভিযানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।
জার্মানির ফ্রেডরিশসহাইন এলাকার রেলস্টেশনের কাছে অবস্থিত একটি বহুতল ভবনে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো ভবনটি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল।
প্রায় ১১৬ জন জরুরি সেবা কর্মী টানা লড়াই চালিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ভবনটি থেকে অন্তত ১১৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ডজনখানেক মানুষকে মই ব্যবহার করে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নারীসহ মোট ১৩ জন সামান্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বহুতল ভবনটির জানালা থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। নারীটি প্রথমে জানালার বাইরের অংশে নেমে নিচে নামার একটি নিরাপদ জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্রয় না পাওয়ায় এবং আগুনের উত্তাপ বাড়তে থাকায় তিনি ৯ তলার ওপর অবস্থানরত ফায়ার সার্ভিসের বাস্কেটকে লক্ষ্য করে নিচে লাফ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কয়েক মুহূর্ত ইতস্তত করার পর তিনি হাত ছেড়ে দেন এবং প্রায় দুই তলা সমপরিমাণ উচ্চতা থেকে সোজাসুজি বাস্কেটে থাকা ফায়ার ফাইটারের কোলে গিয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাকে ধরে ফেলেন, যার ফলে এক নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান তিনি।
উদ্ধার অভিযানের পর ফায়ার সার্ভিসের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, উঁচুতলায় বাতাসের গতি ও আগুনের উত্তাপের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। ভবনটির ভেতরে আটকে পড়া অন্য বাসিন্দাদেরও সিঁড়ি ও টার্নটেবল মই ব্যবহার করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়, যা বড় একটি বিপর্যয় প্রতিরোধ করে।
স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের অভ্যন্তরীণ কোনো ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনার মধ্যেও অক্ষত অবস্থায় নারীটির বেঁচে ফেরার খবর স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

