বাল্টিমোর দুর্ঘটনায় বৈশ্বিক পুনর্বীমা বাজারে বড় আঘাত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর শহরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসের ঘটনায় সামুদ্রিক বীমা খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানা গেছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জাহাজ ডালি সেতুটির সঙ্গে সংঘর্ষের পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে মোট বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখন আনুমানিক দুই দশমিক আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে, যা পূর্ববর্তী প্রাথমিক অনুমান এক দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।

হাউডেন রি নামক বিশ্লেষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি সামুদ্রিক বীমা ও পুনর্বীমা খাতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ক্ষতির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ক্ষতির রেকর্ড ছিল কোস্টা কনকর্ডিয়া জাহাজ দুর্ঘটনা, যা ২০১২ সালে ঘটে এবং এতে বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে আইনি প্রক্রিয়া, উদ্ধার অভিযান, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনার কারণে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে এটি সামুদ্রিক বীমা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ক্ষতির একটি বড় অংশ সেতু পুনর্নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্য এবং চাব নামক বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া দূষণজনিত দায়, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ব্যয় এবং টোল আয়ের ক্ষতির মতো অতিরিক্ত ব্যয়ও মোট ক্ষতির অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, এই ক্ষতির বড় অংশ প্রাথমিক বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে পুনর্বীমাকারী এবং পুনঃপুনর্বীমা হস্তান্তর ব্যবস্থার ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে জাহাজ মালিকদের দায়সীমা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তিন বিলিয়ন ডলারের সীমা পুরোপুরি ব্যবহৃত হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় সেই সীমার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করা হয়নি।

ফলে ক্ষতিগুলো বিভিন্ন স্তরের পুনর্বীমা কাঠামোর মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় পুনর্বীমাকারী প্রতিষ্ঠান এবং পুনঃপুনর্বীমা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ একক বড় ঘটনার ক্ষেত্রে এমন ক্ষতি তাদের মূলধনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে বীমা খাতের সক্ষমতা এই ক্ষতি বহন করার মতো যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সামুদ্রিক বীমা পোর্টফোলিও সাধারণত বৃহৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন উচ্চঝুঁকির সঙ্গে একত্রে পরিচালিত হয়, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

নিচের সারণিতে ক্ষতির প্রধান উপাদানগুলো উপস্থাপন করা হলো—

ক্ষতির ক্ষেত্র আনুমানিক পরিমাণ
সেতু পুনর্নির্মাণ ও সমঝোতা ব্যয় প্রায় দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার
দূষণজনিত দায় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয়
ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয়
টোল আয়ের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয়
মোট বীমাকৃত ক্ষতি দুই দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের বেশি

এই ঘটনা সামুদ্রিক বীমা ও পুনর্বীমা কাঠামোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বড় একক দুর্ঘটনার আর্থিক প্রভাব এবং পুনর্বীমা স্তরভিত্তিক ক্ষতি বণ্টন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।