বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলির ঘটনায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা (৩৫), যিনি ‘কাইল্লা মাসুদ’ নামে পরিচিত। অপরজন তাপস (৩৮), যিনি একটি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আড়াইটার দিকে ডেমরা সেতুর ঢাল এলাকা থেকে তাপসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার একটি বাড়ি থেকে মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান ছামি গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় দুই ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি একনলা শটগান এবং আট রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জের বরাব এলাকার জলিলের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে কাঠের পাটাতনের ওপর থেকে পুরোনো একটি একনলা শটগান ও আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই এলাকায় তাপসের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মাসুদ রানাকে অস্ত্রসহ রূপগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

গ্রেফতার মাসুদ রানা ডেমরার বক্সনগর এলাকার মৃত শাহজাহান মিয়ার পালক ছেলে। অন্যদিকে তাপস বড়ভাঙ্গা মহাকাশ রোড এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাপসের বিরুদ্ধে রুবেল হত্যা মামলায় সাজা রয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানার মাধ্যমে তাপস বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। একই সঙ্গে ডেমরা থানা এলাকায় অস্ত্রের প্রভাব দেখিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট ভোররাতে এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন ব্যক্তি বাড়িটির সামনে গিয়ে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। গুলির ঘটনায় বাড়ির দোতলার একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। তবে ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং একটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ওই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির খোসা ও কার্তুজের সঙ্গে গ্রেফতার দুই ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। অস্ত্রগুলো পরীক্ষার পাশাপাশি গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গুলি ছোড়ার ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

একই সঙ্গে ২৮ আগস্টের হামলায় অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের বিষয়েও তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।