ভারতীয় র্যাপার বাদশাহ ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখির দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় পারস্পরিক সিদ্ধান্তে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার রাতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া পৃথক কিন্তু একই ধরনের বিবৃতিতে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুজন।
এর মধ্য দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। তবে বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি বাদশাহ বা ইশা।
মার্চে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেছিলেন দুজন। বিয়ের বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন তারা। জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বাদশাহর সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছিলেন ইশা রিখি।
সোমবার রাতে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে বাদশাহ লিখেছেন, তিনি ও ইশা পারস্পরিক সিদ্ধান্তে আলাদা হয়ে নিজেদের পৃথক পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন ও বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা বা অনুমান না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাদশাহ। একই সঙ্গে এই সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
তবে বিচ্ছেদের ঘোষণা হঠাৎ এলেও গত জুলাই থেকেই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। ওই সময় ইশা নিজের এবং বাদশাহর একাধিক ছবি ও ভিডিও নিয়ে একটি দৃশ্যসমষ্টি প্রকাশ করেন। এর সঙ্গে দেওয়া তাঁর বার্তা নিয়ে অনুসারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।
ইশা লিখেছিলেন, প্রতিটি ঝড়ই একটি শিক্ষা এবং প্রতিটি প্রার্থনাই একটি আশা। বার্তার সঙ্গে ভাঙা হৃদয় ও প্রার্থনার প্রতীকও ব্যবহার করেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই অনেকে ধারণা করতে শুরু করেন, বাদশাহ ও ইশার সম্পর্কে হয়তো কোনো ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ইশার মা পুনম রিখির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কর্মফল’ নিয়ে কয়েকটি পোস্টও আলোচনায় আসে। যদিও এসব পোস্টের সঙ্গে মেয়ের দাম্পত্য জীবনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো বক্তব্য দেননি।
এদিকে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের সময় ইশাকে ঘিরে আরেকটি গুঞ্জনও চলছিল। সালমান খানের উপস্থাপনায় আসন্ন ‘বিগ বস ২০’ অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে বলে আলোচনা চলছিল। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বাদশাহর ব্যক্তিগত জীবনে এটি দ্বিতীয় বিচ্ছেদ। এর আগে তিনি জেসমিন মাসিহকে বিয়ে করেছিলেন। ২০২০ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান হয়। সেই সংসারে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সঙ্গীতজগতে বাদশাহ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ। র্যাপ ও জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতে তাঁর একাধিক সফল কাজ রয়েছে। অন্যদিকে ইশা রিখি পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। দুজনের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ছিল।
তবে এবার নিজেদের যৌথ সিদ্ধান্তে আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে দুজনই স্পষ্ট করেছেন, তারা পৃথকভাবে সামনে এগিয়ে যেতে চান। বিচ্ছেদের পেছনে ব্যক্তিগত কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে তাঁরা আপাতত বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই রাখতে চাইছেন।


