নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজা ও ১০১টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় মাদক কারবারের অভিযোগে এক নারী ও তাঁর মেয়ের জামাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লোহাগড়া উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের স্ত্রী সীমা বেগম (৩৮) এবং নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে ও সীমার মেয়ের জামাই রাসেল শেখ (২১)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ির বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি গাঁজা ও ১০১টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে সীমা বেগম ও রাসেল শেখকে আটক করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক গোলক মজুমদার জানান, মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পর আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোহাগড়া থানায় মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, সীমা বেগমের স্বামী ইউসুফ শেখ বর্তমানে একটি মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে সীমা ও তাঁর মেয়ের জামাই মাদক কারবারে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোলক মজুমদার বলেন, ইউসুফ শেখ লোহাগড়া উপজেলার অন্যতম মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তাঁর দাবি, সীমা বেগম ও রাসেল শেখ প্রায় ছয় বছর ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের উৎস এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা মামলার তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক গোলক মজুমদার জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক সরবরাহ ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



