আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী পাকিস্তানের তারকা ওপেনার ফখর জামান। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোনো বড় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপ ঘোচাতে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের লক্ষ্য শুধু সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠা নয়, বরং বিশ্বকাপের ট্রফি দেশে ফিরিয়ে আনা।
ফখর জামান মনে করেন, বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের জন্য দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপকে ঘিরে দলের প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধের কথাও তুলে ধরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
ফখর বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। নিজেদের সেরাটা দেব। আশা করি, ট্রফি আবার পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনতে পারব।’
পাকিস্তানের ক্রিকেটে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য পাওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে না পারায় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে জয় দিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। এরপর আর কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টে শিরোপা জিততে পারেনি দলটি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোই এখন পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ফখর জামান জানিয়েছেন, শিরোপার খরা কাটানোর বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশে জাতীয় দলের কাছ থেকে প্রত্যাশা সব সময়ই বেশি থাকে। ফলে বড় প্রতিযোগিতায় ভালো করার পাশাপাশি শিরোপা জয়ের চাপও খেলোয়াড়দের সামলাতে হয়।
তিনি বলেন, ‘আইসিসি ট্রফি জেতার জন্য আমাদের ওপর চাপ রয়েছে। বড় আন্তর্জাতিক ট্রফির খরা কাটানোর ব্যাপারে আমরা নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’
দীর্ঘদিন শিরোপা না পাওয়ায় সমর্থকদের হতাশ হওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন ফখর। তাঁর মতে, ভালো ক্রিকেট খেললে সমর্থকদের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়া যায়। তবে টুর্নামেন্টের শেষ চার বা ফাইনালে পৌঁছানোর আনন্দের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতির পার্থক্য অনেক।
পাকিস্তানের এই ওপেনারের ভাষায়, ‘দীর্ঘদিন আইসিসি ট্রফি না জেতার কারণে মানুষ হতাশ হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা দেখেছি, ভালো খেললে সমর্থকদের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়া যায়। তবে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠার চেয়ে ট্রফি জিতলে গোটা দেশ যেভাবে উদ্বেল হয়ে ওঠে, তা সম্পূর্ণ আলাদা অনুভূতি।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান। ফখর জামানের মতে, এই প্রতিযোগিতা থেকে দল গঠন, খেলোয়াড়দের সামর্থ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় তৈরির সুযোগ পাওয়া যাবে। বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরে ভালো করতে হলে আগেভাগেই সম্ভাব্য দল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের দল গঠনের কাজ এখন থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। কোন খেলোয়াড় কোন পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, চাপের মুখে তাঁদের পারফরম্যান্স কেমন এবং দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাদের প্রয়োজন—এসব বিষয় মূল্যায়নের জন্য দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও বহুজাতিক টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফখর বলেন, ‘বিশ্বকাপে দল গঠনের প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু করতে হবে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে নামছে।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এই ওপেনার। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার মাধ্যমে ব্যাটসম্যান ও বোলাররা নিজেদের ছন্দ ধরে রাখার সুযোগ পান। একই সঙ্গে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে দলের প্রস্তুতি আরও কার্যকর হতে পারে।
তবে বিশ্বকাপে সাফল্য পেতে শুধু কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং প্রতিপক্ষের কৌশল মোকাবিলার সামর্থ্যও বড় ভূমিকা রাখবে।
পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরেই আরেকটি আইসিসি শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফখর জামানের আত্মবিশ্বাস সেই প্রত্যাশাকে নতুন করে উজ্জীবিত করতে পারে। তবে বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে প্রস্তুতির পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তান কতটা কার্যকর দল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে, সেটিও বিশ্বকাপের আগে তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠবে।


