২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পার হতে চললেও ম্যাচটি ঘিরে জল্পনা-কল্পনা যেন থামছেই না। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার সেই উত্তেজনাকর ফাইনাল ম্যাচের নতুন কিছু ভিডিও ফুটেজ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফিফার পরীক্ষামূলক ‘রেফক্যাম’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ধারণ করা এই দৃশ্যগুলো স্লোভেনীয় ম্যাচ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওতে সরাসরি রেফারির চোখের দৃষ্টিকোণ থেকে মাঠের পরিস্থিতি দেখা যায়। ম্যাচের একপর্যায়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি রেফারির কাছাকাছি এলে স্লাভকো ভিনচিচকে অত্যন্ত উত্তেজিত ভঙ্গিতে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী রেফারি মেসিকে বলেন, “মেসি, তুমি পারেদেসকে সামলাও। ওকে একটু শান্ত থাকতে বলো। ওর ঝুলিতে ইতিমধ্যেই একটি হলুদ কার্ড রয়েছে, আমি কোনোভাবেই ওকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতে চাই না।”
ভিডিওর এই কয়েক সেকেন্ডের ফুটেজ সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্পেনের গণমাধ্যম ও সমর্থকরা রেফারির এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করছেন। অনেকের মতে, একজন পেশাদার রেফারির পক্ষ থেকে এ ধরনের মন্তব্য অনুচিত এবং এর মাধ্যমে তিনি মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ডের হাত থেকে বাঁচানোর পক্ষপাতমূলক চেষ্টা করছিলেন।
তবে নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ফুটেজে স্লাভকো ভিনচিচ ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি কোনো সুবিধা দিতে চেয়েছিলেন—এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলে না। খেলার মাঠে কোনো ফুটবলার যাতে চরম শৃঙ্খলাভঙ্গ করে লাল কার্ড না পান, সেজন্য অনেক সময়ই অভিজ্ঞ রেফারিরা দলের অধিনায়ককে দিয়ে খেলোয়াড়কে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। এখানেও ভিনচিচ মূলত মেসির সাহায্য নিয়ে পারেদেসকে সংযত করার অনুরোধ করেছিলেন।
মজার বিষয় হলো, রেফারির এই সতর্কবার্তা কিংবা মেসির মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত পারেদেসকে শান্ত রাখতে পারেনি। মাঠের চরম উত্তেজনার মধ্যেই অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড ফেররান তরেস এক অনবদ্য গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন। এই এক গোলেই আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরে স্পেন।
ম্যাচ শেষের শেষ বাঁশি বাজার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ম্যাচ হেরে মেজাজ হারিয়ে পারেদেস স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। ম্যাচ শেষে দুই দলের ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ওইসব ঘটনার সার্বিক পর্যালোচনা করে ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাবিষয়ক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
রেফক্যামের নতুন এই ভিডিও স্লাভকো ভিনচিচের ওপর চাপ বাড়ালেও বাস্তবে এটি শুধু রেফারি ও মেসির মধ্যকার একটি কথোপকথনের চিত্রই তুলে ধরে। বিতর্ক যাই থাক, ফেররান তরেসের শেষ মুহূর্তের সেই চোখধাঁধানো গোল স্পেনকে বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এনে দিয়েছে। আর এই অপকাশিত ভিডিও ফুটেজ টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ও নাটকীয় ফাইনালে রেফারিংয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার আগুনে নতুন জ্বালানি জোগাল।

