বলের আঘাতে আইসিইউতে আম্পায়ার ধর্মেশ ভরদ্বাজ

নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচ চলাকালে গুরুতর চোট পেয়েছেন আম্পায়ার ধর্মেশ ভরদ্বাজ। মুখের এক পাশে জোরে বলের আঘাত লাগার পর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ইস্ট দিল্লি রাইডার্স ও নিউ দিল্লি টাইগার্সের মধ্যকার ম্যাচের ১৮তম ওভারে। আশিস মিনার করা বলে নিউ দিল্লি টাইগার্সের ব্যাটার লক্ষ্য থারেজা সোজা ব্যাটে জোরালো শট খেলেন। বলটি সরাসরি গিয়ে আম্পায়ার ভরদ্বাজের মুখের এক পাশে আঘাত করে। আচমকা এই ঘটনায় মাঠেই তাঁকে বেশ হতভম্ব অবস্থায় দেখা যায়। আঘাতের পরপরই ম্যাচ সংশ্লিষ্টরা তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেন।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আঘাতের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভরদ্বাজকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে আঘাতের স্থান এবং বলের গতির কারণে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার প্রয়োজন হয়েছে বলে জানা গেছে।

এটি চলতি দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ভরদ্বাজের প্রথম চোটও নয়। এর আগে একই প্রতিযোগিতার একটি ম্যাচে তাঁর কাঁধে আঘাত লেগেছিল। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তালিকাভুক্ত আম্পায়ার এবং এর আগেও দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাঠে আম্পায়ারদের অবস্থান সাধারণত ব্যাটারের খুব কাছাকাছি হওয়ায় দ্রুতগতির শট তাঁদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সোজা ব্যাটে খেলা জোরালো ড্রাইভে বল দ্রুতগতিতে আম্পায়ারের দিকে চলে এলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় খুবই কম থাকে। ক্রিকেটে এমন দুর্ঘটনা বিরল হলেও অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে আম্পায়ার ও ম্যাচ কর্মকর্তারা বলের আঘাতে আহত হয়েছেন।

এদিকে ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ইস্ট দিল্লি রাইডার্স ৭ উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করে। দলটির শুরুটা ছিল বেশ কার্যকর। উদ্বোধনী জুটিতে মেহরা ও রানা মাত্র ৫ দশমিক ৪ ওভারে ৬২ রান যোগ করেন। মেহরা ২১ বলে ৩৫ রান করেন, আর রানা ২২ বলে করেন ৩৩ রান।

এরপর ময়াঙ্ক রাওয়াত ২৩ বলে ৪০ রান এবং সূর্যংশ রায়না ২১ বলে ৩৩ রান করে রাইডার্সদের বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নির্ধারিত ইনিংস শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান সংগ্রহ করে তারা।

১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউ দিল্লি টাইগার্স শুরুতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইনিংসের মাঝপথে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। ১০ দশমিক ২ ওভারে ৯৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। শেষ পর্যন্ত ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউ দিল্লি টাইগার্স। ফলে ৩৬ রানের জয় পায় ইস্ট দিল্লি রাইডার্স।

রাইডার্সদের বোলিং আক্রমণে আশিস মিনা ছিলেন সফলদের অন্যতম। চার ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিনি তিনটি উইকেট নেন। তাঁর বোলিং দলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

ম্যাচের বাইরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে অবশ্য আম্পায়ার ধর্মেশ ভরদ্বাজের চোট। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামটি দিল্লির অন্যতম প্রধান ক্রিকেট ভেন্যু। সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়। সামনে এই মাঠে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচও আয়োজনের কথা রয়েছে।

ভরদ্বাজের চোটের ঘটনায় ম্যাচ পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় হেলমেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও আম্পায়ারদের জন্য ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা তুলনামূলক সীমিত। দ্রুতগতির বল থেকে তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠে অবস্থান, প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব এ ধরনের ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

Tags :

ratul Khaborwala

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর