খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিশ্বের ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। এসব সমস্যার কারণে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ব্যাপকভাবে হচ্ছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি ১০০ মৃত্যুর মধ্যে একটি আত্মহত্যাজনিত। ২০২১ সালে প্রায় ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছে। সংস্থার অ-সংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডেভোরা কেস্টেল জানান, প্রতিটি আত্মহত্যার বিপরীতে ২০টি আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটে, যা শুধু প্রাণহানি ঘটায় না, বরং পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের ওপর গভীর মানসিক আঘাত ফেলে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ১৫–২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে আত্মহত্যা মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল, আর একই বয়সের পুরুষদের মধ্যে এটি তৃতীয় প্রধান কারণ। যদিও ২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার হার ৩৫ শতাংশ কমেছে, তবে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ কমানোর লক্ষ্য পূরণে এখনও অনেক পিছিয়ে।
অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০–২০২১ সালে আত্মহত্যার হার ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্য অঞ্চলগুলোতে কিছুটা কমলেও তিন-চতুর্থাংশ আত্মহত্যা ঘটছে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে, আত্মহত্যার হার ধীরে ধীরে কমলেও উদ্বেগ ও হতাশার মতো মানসিক ব্যাধির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০১১–২০২১ সালের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্ব জনসংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ এসব ব্যাধিতে আক্রান্ত। সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মার্ক ভ্যান ওমেরেন বলেন, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট গভীর হচ্ছে, যার পেছনে প্রধান দুটি কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং কোভিড-১৯ মহামারি।
সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ এখনও সীমিত। ২০১৭ সালের পর স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র দুই শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যয় হচ্ছে। হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছেন।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পরিবর্তন করা এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ’।
খবরওয়ালা/এন