খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম ডাবুয়া এলাকায় বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানিতে ডুবে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তানকে হারিয়ে স্বজনরা শোকে মুহ্যমান।
নিহত শিশুর নাম মো. মোস্তাকিম। সে পশ্চিম ডাবুয়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ পারভেজ হোসেনের আড়াই বছর বয়সী ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো সেদিনও বাড়ির আশপাশে খেলছিল মোস্তাকিম। তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির পাশের নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় পুরো এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশ দিয়ে একটি খাল বয়ে গেছে। খালের আশপাশের নিচু জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত শিশুটি জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পেরে বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর বাড়ির পাশের জমে থাকা পানিতে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিনহাজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে আড়াই বছর বয়সী মোস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে দেখেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং খাল-ডোবার আশপাশে পানি জমে থাকার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য এ ধরনের স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েক মুহূর্তের অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই বর্ষা মৌসুমে শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, খাল, পুকুর কিংবা ডোবার কাছে তাদের যাওয়া থেকে বিরত রাখতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রা।
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী বেড়া বা নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন করলে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।