খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ এএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা এস এম ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে বোয়ালমারী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ভীমপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাকে খুঁজছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ মোট ৬টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন: ২০২৫ সালে এলাকায় সহিংসতা ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে বোয়ালমারী থানায় ফারুকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বিস্ফোরক মামলা: গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পার্শ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা থানায় দায়েরকৃত একটি বিস্ফোরক মামলার প্রধানতম এজাহারনামীয় আসামি তিনি।
অন্যান্য অপরাধের বিবরণ: পুলিশ জানায়, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকায় জোড়া হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আরও একাধিক পুরোনো মামলায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি প্রক্রিয়া মেনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ফরিদপুর বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হবে।
ফারুক হোসেনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঘোষপুর ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ফারুক হোসেন বিগত সরকারের আমলে সম্পূর্ণ বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব ও অনুকম্পাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি গোটা এলাকায় নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফারুকের মদদে এলাকায় একচ্ছত্র সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি স্থানীয় নদ-নদীর বালুমহাল ও সরকারি বিল দখল, সাধারণ মানুষের মূল্যবান জমিজমা জবরদখল এবং নির্বাচনকালে সশস্ত্র বলপ্রয়োগ করে কেন্দ্র দখলের মতো অপকর্ম পরিচালনা করতেন। তার ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তটস্থ থাকত।
বোয়ালমারী থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
মন্তব্য