ব্যাংকে যাওয়ার পর নিখোঁজ, দুই দিন পর মিলল সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ফজলুল রহিম কাজল (৫৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি একটি গাছের ডালে হেলান দেওয়া ছিল। তবে তাঁর মৃত্যু হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকীয়াজড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত জবান আলীর ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর নিজ এলাকায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর সকালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন কাজল। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি ব্যাংকে পৌঁছেছিলেন কি না কিংবা প্রকল্পের টাকা তুলেছিলেন কি না, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত নন। দুই দিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ার পর শুক্রবার তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কংস নদের পাড়ে গরু চরাতে গিয়ে এক ব্যক্তি দুর্গন্ধ পান। পরে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাশের জঙ্গলে একটি গাছের মগডালের কাছে হেলান দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহের অবস্থান এবং গলায় রশি পেঁচানো থাকার বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধারণা, কাজলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “ব্যাংক থেকে টাকা তোলার উদ্দেশ্যে ৭ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি কাজল। টাকা ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছিল কি না, তা আমরা জানি না। এটি কোনো আত্মহত্যা হতে পারে না। লাশটি গাছের ডালে বসিয়ে রাখা অবস্থায় ছিল, ঝুলন্ত ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান। কীভাবে কাজলের মৃত্যু হলো, কেন তাঁর মরদেহ গাছের ডালে পাওয়া গেল এবং ঘটনার পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর ইসলাম হারুন জানান, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিধেয় বস্ত্রও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ওসি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

ব্যাংকে টাকা তুলতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এবং দুই দিন পর নদীর পাড়ের জঙ্গল থেকে গাছের ডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, কাজল কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছালেন এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ এবং মরদেহের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ—কোনোটির ভিত্তিতেই এখনই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ রহস্যের জট খুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।