খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৮:৫৪ এএম
ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদের হার (ইয়েল্ড) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সপ্তাহকালের ব্যবধানে ট্রেজারি বিলের সুদের হার ২১ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমেছে, যার ফলে ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদ ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের আয়ের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৯৩ শতাংশে, যা তার এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৯.১৯ শতাংশ। একইভাবে, ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদ ৯.৩২ শতাংশ থেকে কমে ৯.০৭ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদ ৯.৩৩ শতাংশ থেকে কমে ৯.১৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, মূলত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জমে থাকা অতিরিক্ত তারল্য এবং বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের নিম্নগতির কারণেই ট্রেজারি বিলের সুদের হারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৩,২৭,৮৭৭ কোটি টাকা, যা জুন মাসে ৮০,১২৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৪,০৮,০০০ কোটি টাকায়। এর আগে এপ্রিল ও মার্চ মাসে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩,৭৭,২৩৫ কোটি টাকা এবং ৩,৭৮,১৩৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোতে আমানত বৃদ্ধির গতিও বর্তমানে বেশ ভালো। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক চড়া সুদের হার প্রস্তাব করায় গত মে মাস নাগাদ শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর আমানত প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১১.৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে নতুন করে সংগ্রহ করা এই আমানত বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত হারে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সুরক্ষিত বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ট্রেজারি বিলের দিকে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো, যা সুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে হার কমিয়ে দিচ্ছে। আমানতের আধিক্যের কারণে অনেক শীর্ষ ব্যাংক ইতোমধ্যে আগস্ট মাস থেকে আমানতের সুদের হার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়ে এনেছে।
অর্থনৈতিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের (২০২৫-২৬) সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৭,৯৫,৩৫৯ কোটি টাকা, যা তার আগের অর্থবছরের ৬,৯৩,৭২৫ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মূল বিনিয়োগকারী হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারি ট্রেজারি বিনে তাদের বিনিয়োগ উত্তরোত্তর বাড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের ওপর আরোপিত ৯ শতাংশ সর্বোচ্চ সুদের সীমা তুলে নেয় এবং ‘স্মার্ট’ (SMART) পদ্ধতির আওতায় বাজারভিত্তিক সুদের হার চালু করে। এর পর থেকেই মূলত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার বাড়তে শুরু করে। এমনকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোনো কোনো সময় এই সুদের হার ১২ শতাংশও অতিক্রম করেছিল, যা ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। তবে বর্তমান তারল্য পরিস্থিতির প্রভাবে সুদহার পুনরায় স্বাভাবিক ও নিম্নমুখী ধারায় ফিরছে।
মন্তব্য