এই বিপুল আর্থিক ঘাটতি সামাল দিতে ফেডারেশনের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ভেঙে অর্থ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে তাঁর এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন ফেডারেশনের একাধিক সদস্য। শেষ পর্যন্ত বিশেষ সাধারণ সভায় (এসজিবিএম) প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়নি।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচিতে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ফুটবলের পরিচিতি বাড়ানো এবং দেশের দর্শকদের বিশ্বমানের দলগুলোর খেলা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন আয়োজন করা হয়েছিল। তবে মাঠের বাইরের হিসাব-নিকাশে এই উদ্যোগ এখন ফেডারেশনের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজ্য ফুটবল সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলো আয়োজনের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ঘাটতি পূরণে এআইএফএফের স্থায়ী আমানত থেকে অর্থ উত্তোলনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কল্যাণ চৌবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সভাপতি বৈঠকে জানিয়েছেন, এফডিআর ভেঙে আপাতত প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে চান তিনি। পরে বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের ব্যবস্থা করে সেই অর্থ আবার ফেডারেশনের স্থায়ী আমানতে জমা দেওয়ার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ফেডারেশনের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের একটি অংশ মনে করছেন, নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা কোনো আয়োজনের আর্থিক ঘাটতি পূরণে স্থায়ী আমানতের অর্থ ব্যবহার করা ঠিক হবে না। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের সঞ্চয়ে হাত দেওয়া উচিত নয় বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।
বৈঠকে আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা চুক্তিতে গোপনীয়তার শর্ত থাকায় সদস্যদের সামনে লোকসানের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঠিক কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং কীভাবে এত বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
এদিকে এআইএফএফের সহ-সভাপতি এনএ হারিসও স্থায়ী আমানত ভাঙার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অনলাইনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি জানান, ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি আগেই এফডিআর না ভাঙানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নতুন করে স্থায়ী আমানতের অর্থ ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তাঁর অবস্থান।
ভারতীয় ফুটবলের জন্য ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বখ্যাত দলকে আতিথেয়তা দেওয়া নিঃসন্দেহে বড় আয়োজন। তবে এমন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যয়, বাণিজ্যিক চুক্তি, সম্প্রচার স্বত্ব এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়গুলো আগে থেকেই যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ, বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করলেও তা থেকে প্রত্যাশিত আয় নিশ্চিত না হলে ফেডারেশনকে বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে হয়।
এখন এআইএফএফের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে এই বিপুল আর্থিক ঘাটতি সামাল দেওয়া যায়। স্থায়ী আমানত ভাঙানোর প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় বিকল্প অর্থের উৎস খুঁজতে হবে ফেডারেশনকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


