ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের খাড়েরা ইউনিয়নের গোলাসার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বাসের ভেতরে আটকে পড়া ও আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কসবা উপজেলার কুটি এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটি গোলাসার এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ একটি চাকা পাংচার হয়ে যায়। এতে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা কোনো ধরনের বিলম্ব না করে বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করে আনেন। পরে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ঘটনার পর বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিকভাবে বাসের একটি চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেলেও, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল কি না, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে। চালকের অনুপস্থিতির কারণে দুর্ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কপথ। প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা এবং সড়কের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে নিয়মিতভাবে যানবাহনের যান্ত্রিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং যাত্রার আগে বিশেষ করে টায়ার ও ব্রেকের অবস্থা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় তৈরি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আহতদের পরিচয় এবং তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। বাসচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে দুর্ঘটনার সময় বাসের গতি, চাকা পাংচারের পর চালকের নেওয়া পদক্ষেপ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।