‘স্কুল চিতা’ নামে পরিচিত বেনিনের তরুণ ফুটবলাররা টানা দুই দিনে দুটি বড় জয় তুলে নিয়ে প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কাতারকে ৭-০ গোলে হারানোর মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর ভারতের বিপক্ষে আরও বিধ্বংসী রূপে হাজির হয় তারা। দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৩৪ বার বল পাঠালেও নিজেদের জালে একবারও বল ঢুকতে দেয়নি বেনিন।
ভারতের বিপক্ষে ৮০ মিনিটের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বেনিন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গোলের ব্যবধান বাড়াতে থাকে দলটি। ভারতীয় ফুটবলাররা বেনিনের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
ম্যাচে বেনিনের হয়ে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন জন ইথান হুন্তিনমে, ফ্রাঁসোয়া আদিসা ও ওসভালদো সেমেভো লোকো। প্রত্যেকেই চারটি করে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁদের পাশাপাশি ইজুদিন বুকারি হ্যাটট্রিক করে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন। ভারতের খেলোয়াড়দের দুটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়।
বেনিনের এমন পারফরম্যান্স শুধু আক্রমণভাগের কার্যকারিতাই তুলে ধরেনি, রক্ষণভাগের দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল হজম না করে ৩৪ গোল করার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে তুলে ধরেছে তারা।
এদিকে গ্রুপ ‘বি’-এর অন্য ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে চীনের দ্বিতীয় দল। কাতারকে ৬-০ গোলে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারত আইএসএসও-২ দলকে ১৫-০ গোলে হারিয়েছিল স্বাগতিক দেশের দলটি।
ফলে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ শেষে বেনিন ও চীনের সংগ্রহ সমান ছয় পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সেভেরিন ডানহার শিষ্যরা। বেনিনের গোল ব্যবধান +৩৪, অন্যদিকে চীনের +২১।
গ্রুপের বাকি দুই দল ভারত ও কাতার এখনো কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি। ফলে শেষ ম্যাচের আগেই বেনিন ও চীনের পরবর্তী পর্বে ওঠা নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল শেষ ষোলোয় খেলার সুযোগ পায়।
এ অবস্থায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বেনিন ও চীনের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই দলই পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করায় এখন তাদের মূল লক্ষ্য গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করা।
বেনিনের জন্য এবারের প্রতিযোগিতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটি টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালের আসরে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল তারা। তবে পরের বছর একই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। ২০২৪ সালের প্রতিযোগিতায় ১৯তম স্থানে থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল বেনিনকে।
আগের দুই আসরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বেনিনের তরুণ ফুটবলাররা। প্রথম দুই ম্যাচের ফল তাদের সেই লক্ষ্যের পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ২৭ গোলের জয় দলটির আক্রমণাত্মক শক্তির বড় প্রমাণ। একই সঙ্গে টানা দুই ম্যাচে গোল হজম না করার বিষয়টি তাদের রক্ষণভাগের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরেছে।
তবে গ্রুপ পর্বে বড় জয় পেলেও নকআউট পর্বে অপেক্ষা করছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সেখানে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি পরাজয়েই শেষ হয়ে যেতে পারে প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
বেনিনের লক্ষ্য এখন জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ ষোলোতেও ভালো পারফরম্যান্স করা। ২০২৩ সালের পঞ্চম স্থানকে ছাড়িয়ে নতুন সাফল্য অর্জন করতে পারলে সেটি হবে দেশটির তরুণ ফুটবলারদের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।


