শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম। একই সময়ে লেনদেন বন্ধ থাকবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিরতি চলবে। ফলে ব্যাংকের শাখায় সরাসরি সেবা গ্রহণ এবং শেয়ারবাজারে নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির সূচি অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এবং ২৪ অক্টোবর শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পূজার ছুটি। সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
ছুটির আগে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছিল। ওই দিন সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর ফলে ব্যক্তি গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ছুটির আগে আর্থিক কাজ গুছিয়ে নেওয়ার বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়।
ব্যাংক বন্ধ থাকায় যেসব গ্রাহক চেক জমা, অর্থ স্থানান্তর, বড় অঙ্কের লেনদেন কিংবা শাখায় উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে চান, তাঁদের আগে থেকেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ, সরবরাহকারীদের বিল নিষ্পত্তি এবং অন্যান্য সময়সীমাবদ্ধ আর্থিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
বন্দর এলাকায় সীমিত ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে
সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার নির্ধারিত ব্যাংক শাখা ও বুথে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দর ও কাস্টমস এলাকায় আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধ, বাণিজ্যিক নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ এবং পণ্য খালাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন হতে পারে। ছুটির কারণে এসব কাজে যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য বন্দর এলাকায় সীমিত ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে সব শাখায় একই ধরনের সেবা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন শাখা খোলা থাকবে, কতক্ষণ সেবা দেবে এবং কী ধরনের লেনদেন করা যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তাই জরুরি বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করা যুক্তিযুক্ত।
ডিএসই ও সিএসইতে বন্ধ থাকবে লেনদেন
ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজারের নিয়মিত লেনদেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে এই সময়ে শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে না। ছুটির সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বাজারের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
শেয়ারবাজারের লেনদেন ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শেয়ার কেনাবেচার বিপরীতে অর্থ পরিশোধ, তহবিল স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক হিসাব সমন্বয়ের মতো কাজে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। এ কারণে ব্যাংকের ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এই বিরতির ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত ছুটির দিনগুলোতে স্বাভাবিক বাজার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। যাঁদের শেয়ার কেনাবেচা বা অর্থ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের ছুটির আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। ছুটির পর লেনদেন শুরুর নির্দিষ্ট সময় জানতে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের ঘোষিত সূচি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
এদিকে ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকলেও এটিএম, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু সেবা পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব সেবার প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। শাখায় সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন এমন সব কাজ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। একইভাবে কিছু লেনদেনের নিষ্পত্তিতে ছুটির কারণে বিলম্ব হতে পারে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই দীর্ঘ ছুটি সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী—সব পক্ষের আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেভাগে সম্পন্ন করা, জরুরি সেবার সময়সূচি জেনে নেওয়া এবং ছুটির পর কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি।



