ঘটনাটি ঘটে গত ৭ অক্টোবর রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামে। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন জাকির মিয়া (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস, আলামিন ওরফে জিকির এবং বাহার মিয়া (২২)। তাঁরা সবাই একই ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই দিন গ্রামের একটি মাদ্রাসার মাঠে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার জন্য সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয় কিশোরীটি। অভিযোগ অনুযায়ী, পথে অভিযুক্তরা তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে তাকে গ্রামের নদীতীরবর্তী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে জাকির, নাঈম ও সোহাগ কিশোরীটিকে ধর্ষণ করেন। অন্যরাও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কিশোরীকে বাড়ির কাছাকাছি ফেলে রেখে চলে যান অভিযুক্তরা। এ সময় কাউকে ঘটনাটি জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
চিকিৎসাধীন কিশোরী, সংগ্রহ করা হয়েছে নমুনা
ঘটনার পর শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের কথা জানায় কিশোরীটি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক রতন কুমার ঢালী জানান, ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর কিশোরীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে চিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে।
মামলা করতে দেরির পেছনে আপসের আশ্বাসের অভিযোগ
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি তাদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়। তাঁদের কথায় ভরসা করে পরিবার শুরুতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগীর মা শনিবার রাতে সরাইল থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মামলা হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নাঈম মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্য চার আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
দ্রুত বিচার দাবি মহিলা পরিষদের
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শামীমা শিকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনের কোনো ফাঁকফোকর ব্যবহার করে যেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দায় এড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনাটির তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগী কিশোরীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের ওপর এখন গুরুত্ব দিচ্ছে পরিবার।


