পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড চলতি ২০২৬ হিসাববছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সদ্য সমাপ্ত এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় ও নগদ প্রবাহ—উভয় সূচকেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। পর্ষদ সভায় প্রতিবেদন অনুমোদনের পর কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৬) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬২ পয়সায়। আগের বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে যেখানে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ কেবল তৃতীয় প্রান্তিক বিবেচনাতেই পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
একইভাবে পুরো নয় মাসের (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সার্বিক হিসাব পর্যালোচনা করলেও কোম্পানিটির ব্যবসায়িক অগ্রগতি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই তিন প্রান্তিক মিলিয়ে পূরবী জেনারেলের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় হয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা। গত বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা। ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং কার্যকর তহবিল ব্যবস্থাপনার ফলেই এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহেও (এনওসিএফপিএস) বেশ বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই নগদ প্রবাহের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৩ পয়সা। এটি প্রকাশ করে যে প্রতিষ্ঠানটির প্রিমিয়াম আদায় এবং ব্যবসার মূল স্রোত থেকে নগদ অর্থ আসার গতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।
এ ছাড়া, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের হিসাব অনুযায়ী পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮ পয়সা। দেশের পুঁজিবাজারে সাধারণ বীমা খাতের আওতাভুক্ত এই কোম্পানিটি ধারাবাহিক আর্থিক পারফরম্যান্স বজায় রাখা এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য স্থিতিশীল রিটার্ন ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর্থিক সূচকগুলোর এই সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি দেশের মূলধন বাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে কোম্পানিটির অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।


