স্প্যানিশ লা লিগায় জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে অপরাজেয় যাত্রা বজায় রেখে ৫৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছে বার্সেলোনা। শনিবার রোমাঞ্চকর ম্যাচে রিয়াল বেটিসকে ৫-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষ স্থান আরও মজবুত করেছে কাতালান জায়ান্টরা। প্রতিপক্ষের মাঠে এ জয়ের ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে স্পষ্ট পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে গেল বার্সেলোনা।
লা কারতুখা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ফ্লিকের শিষ্যরা। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটে ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। বক্সের একদম কোনায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ফাকুন্দো বের্নালকে একক নৈপুণ্যে কাটিয়ে বাঁকানো নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই তরুণ তারকা। তবে শুরু থেকে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক খেললেও প্রথমার্ধে বার্সার রক্ষণের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২৯ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে পাবলো ফোর্নালসের দারুণ ক্রসে হেডের মাধ্যমে গোল করে রিয়াল বেটিসকে সমতায় ফেরান ভালেন্তিন গোমেস।
সমতায় ফেরার পর বার্সেলোনাকে আবার এগিয়ে দেন ক্লাবটিতে যোগ দেওয়া রদ্রি। কর্নার থেকে আসা বলে নিখুঁত হেডে বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটি নিশ্চিত করেন তিনি। কিছুক্ষণ পরেই বেতিসের জিওভানি লো চেলসো দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরানোর উল্লাসে মাতলেও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সহায়তায় বিল্ড-আপের সময় কুচো এর্নান্দেজের হ্যান্ডবল ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল করা হয়। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্লিকের দল।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই চাপ বাড়ায় বার্সা। খেলার ৫১ মিনিটে ইয়ামালের বুদ্ধিদীপ্ত কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল জেসুস। এর ঠিক আগেই অফসাইডের ফাঁদে পড়ে তাঁর একটি নিশ্চিত গোল বাতিল হয়েছিল। অবশ্য এর পর পরই বেতিসের হয়ে এক গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেন এজ আবদে। কিন্তু গোল উদ্যাপনের পরই বাঁধে বিপত্তি। মাঠে ঘটনাচক্রে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বেতিসের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো বের্নাল। সংঘর্ষের জেরে ইয়ামালকেও হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বেটিসকে চেপে ধরে শেষ দিকে আরও দুই গোল আদায় করে নেয় বার্সেলোনা। পাউ কুবারসির হেড থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে চতুর্থ গোলটি করেন এরিক গার্সিয়া। পরবর্তীতে আগামী সপ্তাহের বহুল প্রতীক্ষিত ‘এল ক্লাসিকো’র কথা মাথায় রেখে ইয়ামালকে মাঠ থেকে তুলে নেন ফ্লিক, স্থলাভিষিক্ত করা হয় চোট কাটিয়ে ফেরা রাফিনিয়াকে। ম্যাচের শেষভাগে বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে পঞ্চম গোলটি উপহার দেন দানি ওলমো। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো এক ম্যাচে ৫ বা তার চেয়ে বেশি গোল করার কৃতিত্ব দেখাল বার্সা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে টানা ১১টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করল বার্সেলোনা। একই সঙ্গে তারা ছুঁয়ে ফেলল ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া মৌসুমে টানা নয়টি লিগ ম্যাচ জয়ের সর্বকালের রেকর্ড। আগামী বুধবারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেইনুর্দের বিপক্ষে নামার আগে রিয়াল বেটিস তাদের তারকা মিডফিল্ডার ইসকোসহ কয়েকজন প্রধান খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখেছিল। তা সত্ত্বেও কোচ মানুয়েল পেলেগ্রিনির দল প্রথমার্ধে বার্সাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল। দিনের অন্য ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদ ১-০ গোলে এসপানিওলকে পরাজিত করে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে।


