ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সংঘবদ্ধ বিড়াল চোর চক্রকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। হো চি মিন সিটি পুলিশ জানিয়েছে, জবাই ও বাণিজ্যিক বিক্রির উদ্দেশ্যে খাঁচায় আটকে রাখা ৪০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে চক্রটির ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানটি দক্ষিণ ভিয়েতনামের তাই নিন প্রদেশ এবং হো চি মিন সিটির একাধিক গোপন আস্তানায় একযোগে পরিচালিত হয়।
ভিয়েতনাম–এর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় শুধুমাত্র জীবিত বিড়ালই নয়, বরফে সংরক্ষিত প্রায় ৮০টি মৃত প্রাণীও জব্দ করা হয়। পাশাপাশি একটি পৃথক কেন্দ্র থেকে আরও ২১টি বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানটি পরিচালনা করে হো চি মিন সিটি পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা গত প্রায় তিন বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোষা বিড়াল ফাঁদ পেতে চুরি করে আসছিল। পরে এসব প্রাণী দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধার হওয়া বিড়ালের মধ্যে ৪০টিকে ইতিমধ্যে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রমের পরও কিছু বিড়াল মারা গেছে।
ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ হলেও, এসব প্রাণী সংগ্রহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে বৈধ উৎস ও প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোর উৎস এবং পাচার চক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ভিয়েতনামে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পোষা প্রাণী চুরি ও পাচারের শিকার হয়, যা একটি বড় অবৈধ বাণিজ্যিক চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করে।
নিচে অভিযানের প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
সংখ্যা/তথ্য |
| জীবিত বিড়াল উদ্ধার |
৪০০+ |
| মৃত প্রাণী (বরফে সংরক্ষিত) |
প্রায় ৮০টি |
| পৃথক কেন্দ্র থেকে উদ্ধার বিড়াল |
২১টি |
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি |
৯ জন |
| মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া বিড়াল |
৪০টি |
| চক্রের কার্যক্রমের সময়কাল |
প্রায় ৩ বছর |
পুলিশ আরও জানিয়েছে, যেসব বাসিন্দার পোষা বিড়াল সাম্প্রতিক সময়ে হারিয়ে গেছে, তাদের উদ্ধারকৃত প্রাণীদের শনাক্ত করতে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযান সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রাণী পাচার ও অবৈধ বাণিজ্য নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি নির্ধারণে কাজ চলছে।
মন্তব্য