খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উদ্ভূত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট উভয় রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় একটি খেলাধুলার বিষয়কে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে প্রথমে ব্যাপক মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার রেষ ধরে একটি পক্ষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে ভৈরব স্টেশন সংলগ্ন প্রধান রেলপথ অবরোধ করে অবস্থান নেয়। এই অবরোধের ফলে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল স্থগিত ঘোষণা করে। এর ফলে উভয় রেলপথে একটি গভীর অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় এবং পাঁচটি ভিন্ন ট্রেন মাঝরাস্তায় ও বিভিন্ন মধ্যবর্তী স্টেশনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি বিশেষ বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানানো হয়, ভৈরব স্টেশনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অবরোধের কারণে নির্দিষ্ট ট্রেনসমূহ বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে বিলম্বিত অবস্থায় থমকে আছে। গভীর রাতে মাঝরাস্তায় ট্রেনগুলো এভাবে আটকে পড়ার কারণে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তি, অনিশ্চয়তা ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে আটকে থাকা ট্রেনগুলোর নম্বর, নাম, সময় এবং সুনির্দিষ্ট অবস্থানের বিবরণ নিচে ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক সংখ্যা | ট্রেনের নম্বর | ট্রেনের নাম ও প্রকার | অবরুদ্ধ হওয়ার সময় | বর্তমান অবস্থান |
| ১ | ৭০৩ | মহানগর গোধূলি | রাত ৯টা ১৫ মিনিট | ভৈরব স্টেশনের বহির্ভাগ |
| ২ | ৭১০ | পারাবত এক্সপ্রেস | রাত ৯টা ৩৩ মিনিট | তালশহর রেলওয়ে স্টেশন |
| ৩ | ৭৪৯ | এগারোসিন্ধুর গোধূলি | রাত ৯টা ২২ মিনিট | দৌলতকান্দি রেলওয়ে站 |
| ৪ | ৬০৬ | কন্টেইনার (মালবাহী) ট্রেন | রাত ৯টা ৩৫ মিনিট | মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন |
| ৫ | উল্লেখ নেই | নরসিংদী কমিউটার ট্রেন | রাত ৯টা ৩৮ মিনিট | খানাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন |
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রেলপথ থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রেরিত বার্তায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করার পর এবং ট্রেন চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করার পরেই কেবল এই দুই রেলপথে ট্রেন পরিচালনা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে।