খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর মতিঝিল ও তার আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য এক স্বস্তির খবর এনেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের ত্রাস ও ওই এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা বাপ্পিকে তার চার সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র। শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিনভর মতিঝিল ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় পুলিশের বিশেষ দল। ধারাবাহিক এই অভিযানের একপর্যায়ে বাপ্পি ও তার চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বাগে পায় পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মতিঝিল এলাকায় বাপ্পির নিজস্ব একটি কথিত কার্যালয় বা টর্চার সেলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় তিনটি দামী বিদেশী রিভালভার উদ্ধার করতে সক্ষম হন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, তানিম রেজা বাপ্পি এই অঞ্চলের অপরাধ জগতের এক পরিচিত নাম। তার বিরুদ্ধে মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মারামারিসহ অন্তত সাতটি গুরুতর মামলা রয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল এই সন্ত্রাসী। তবে প্রতিবারই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে সে আবারও পুরোনো চেহারায় ফিরত। জেল থেকে বের হয়েই নতুন করে দল ভারী করে নিজের অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তারে লিপ্ত হতো সে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে মতিঝিল ও তার সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় যতগুলো বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় সবগুলোর পেছনেই বাপ্পি ও তার এই চক্রটির প্রত্যক্ষ সংযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চক্রটিকে ধরা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের কাছে আর কোনো অবৈধ অস্ত্র আছে কিনা এবং তাদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের মদদ রয়েছে কিনা, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক এলাকাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত রাখতে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।