ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত শেখ হোসেন আলী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির কাছের একটি বাঁশঝাড়ের ভেতরে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে প্রতিবেদন পাওয়ার আগে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহত ব্যক্তির পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল। সংসারে অভাব-অনটন ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ছেলেদের সঙ্গে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁর মতবিরোধ ছিল।
এই পারিবারিক মতবিরোধের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিরোধের বিষয়গুলো কী ছিল, কিংবা সেগুলোর সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।
ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি হত্যার শিকার হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ কিংবা এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ হোসেন আলীর মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যাবৃত রয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।


