খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু করা ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ডিম সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২ আগস্ট) উপজেলার গুপ্তেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের টিফিনের সময় খাওয়ার অনুপযোগী ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা ২১৮টি ডিম সরবরাহ করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজন। টিফিনের সময় সহকারী শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ফুড ম্যানেজার আশিকুর রহমান প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিমগুলো বিতরণ শুরু করেন। তবে খোসা ছাড়াতে গেলেই দেখা দেয় বিপত্তি। ডিমের ভেতর থেকে একধরনের তীব্র দুর্গন্ধ বেরিয়ে মুহূর্তে পুরো শ্রেণিকক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
পরীক্ষা করে দেখা যায়, বেশ কিছু ডিমের ভেতরের অংশ কালচে ও শক্ত হয়ে গেছে, আবার কোনোটির ভেতরে পচা পানি জমে রয়েছে। এমন ডিম শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তা ফেলে দেয়। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আশিকুর রহমান জানান, ডিমগুলো কোনোভাবেই খাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ স্থগিত করা হয়। তিনি আরও জানান, এই একই বিদ্যালয়ে এর আগেও অন্তত দুইবার ঠিকাদারের পক্ষ থেকে পচা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল।
গুপ্তেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জানান, ঠিকাদারের সরবরাহ করা ডিম পচা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত তাদের খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দুপুর দুইটার দিকে ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা পচা ডিমগুলো বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝরে পড়া রোধ করা, উপস্থিতির হার বাড়ানো এবং শিশুদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সরকার ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি চালু করেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের খাদ্যতালিকায় ডিম ছাড়াও পুষ্টিকর বনরুটি, প্যাকেটজাত দুধ, বিস্কুট এবং বিভিন্ন মৌসুমি ফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন অসচেতনতা ও গাফিলতি পুরো কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পচা ডিম সরবরাহের খবরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান, কোমলমতি শিশুরা না বুঝে এই পচা ডিম খেয়ে ফেললে ফুড পয়জনিং কিংবা পেটের জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারত। শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই।
অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমন নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সাহস না পায়, সে বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কঠোর মনিটরিং জোরদার করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য