রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ‘প্রাইম’ পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের প্রায় ১৪ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটের দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বেলা ২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে, বাসটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বাসের বৈদ্যুতিক গোলযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে আরও যাচাই প্রয়োজন।
জানা গেছে, বাসটি শেরপুর থেকে যাত্রী নিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে পৌঁছেছিল। টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাসটিতে আগুন দেখা যায়। আগুনের সূত্রপাতের সময় বাসের ভেতরে কোনো যাত্রী ছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও হতাহত হওয়ার খবর নেই।
আগুন লাগার পর বাসটির আশপাশে সতর্কতা তৈরি হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই বাস টার্মিনাল এলাকায় দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাস নিয়মিত যাত্রী ওঠানামা ও অবস্থান করে। ফলে একটি বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে আশপাশের যানবাহন ও স্থাপনার জন্যও ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে আগুনে বাসটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। আগুনে বাসটির কোন কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা এসির যন্ত্রাংশ থেকে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি কতটা নিশ্চিত—সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়।
রাজধানীতে গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে এসি, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সংযোগে ত্রুটি থাকলে চলন্ত বা পার্ক করে রাখা বাসেও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ দ্রুত মেরামত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মহাখালীর এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির খবর না থাকলেও বাসটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ পরবর্তী তদন্ত বা কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হতে পারে।


