খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই ডিসেম্বর ২০২৫, ২:৪৮ এএম
মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘বিজয় মেলা’। পুরান ঢাকার জনসন রোডে অবস্থিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মেলা দেশীয় পণ্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সোয়া তিনটায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি উপস্থিত সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে মেলায় স্বাগত জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, এই বিজয় মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয় পণ্যের প্রসার এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এই মেলা মূলত দেশীয় পণ্যকে সামনে আনার জন্য। এখানে এমন অনেক পণ্য রয়েছে, যা আমাদের ঐতিহ্য, শিল্পরুচি ও সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে।”
স্টল মালিক, উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এই মেলার মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই উপকৃত হবেন বলে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি তিনি সবাইকে পুরো সময় জুড়ে সক্রিয়ভাবে মেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের বিজয় মেলায় মোট ২৮টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত নারী মৈত্রী ও সর্বজয়া নারী উদ্যোক্তা স্টল, কারাপণ্য, সুলতানা বুটিকস, শাকিল জামদানি তাঁতঘর, আর কে ফ্যাশন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্টল উল্লেখযোগ্য। স্টলগুলোতে দেশীয় শাড়ি, জামদানি, হস্তশিল্প, চারু ও কারুপণ্যসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সমাহার দেখা গেছে।
উদ্বোধনের পরপরই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সংগীতানুষ্ঠানকে ঘিরে ভিড় আরও জমে ওঠে। অনেক দর্শনার্থী আগ্রহ নিয়ে হাতে বোনা শাড়ি, পাটজাত পণ্য ও দেশীয় পোশাক দেখছেন এবং পছন্দ অনুযায়ী কিনছেন।
মেলার তিন দিনই সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিজয়ের গান পরিবেশন করা হবে। প্রথম দিনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা ২০টি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। পরবর্তী দুই দিন অন্যান্য শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে পিভিসি প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে স্টলগুলো সাজানো হয়েছে, যাতে পণ্যের কোনো ক্ষতি না হয়।
নারী মৈত্রী স্টলের ব্যবস্থাপনায় থাকা হেলেন আক্তার জানান, এখানে আড়ং কটন, বেক্সি ভয়েল কাপড়ের পাঞ্জাবি, সুতি ও পিওর কটনের শাড়ি, পাশাপাশি হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আজ প্রথম দিন, অনেকে ঘুরে দেখছেন। বিক্রি এখনো তেমন শুরু হয়নি। তবে আগামী দুই দিনে ভালো বিক্রির আশা করছি।”
কলতাবাজার এলাকা থেকে মেলায় আসা দর্শনার্থী মিজানুর রহমান বলেন, “পাট ও তাঁত আমাদের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পণ্য। এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, ব্যবহারেও আরামদায়ক। তাই প্রতি বছরই বিজয় মেলায় আসি।”
এদিকে মেলা শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লিটুস লরেন চিরান জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে।
বিজয় মেলা: সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আয়োজন | ঢাকা জেলা প্রশাসন |
| উপলক্ষ | মহান বিজয় দিবস |
| স্থান | জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মাঠ, জনসন রোড |
| মেয়াদ | ৩ দিন (১৬–১৮ ডিসেম্বর) |
| সময় | সকাল ১০টা – রাত ৮টা |
| স্টল সংখ্যা | ২৮টি |
| বিশেষ আয়োজন | প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিজয়ের গান |
মন্তব্য