খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই অক্টোবর ২০২৫, ৫:৫৬ পিএম
ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক বাংলাদেশি রূপান্তরকামী, যিনি গত ৩০ বছর ধরে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশিকে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম বাবু আয়ান খান, যিনি ‘জ্যোতি’ ও ‘গুরু মা’ নামেও পরিচিত। তিনি মুম্বাইয়ে নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার অন্তত ৩০০ জন অনুগামী রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতের পত্রিকা এনডিটিভি জানিয়েছে, জ্যোতি ভুয়া জন্মসনদ, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি নথিপত্র যাচাইয়ের সময় তার জালিয়াতি ধরা পড়লে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা গেছে, ‘গুরু মা’-এর নেতৃত্বে একটি চক্র পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করাত। প্রথমে তাদের কলকাতায় কয়েকদিন রাখা হত। সেখানে ভুয়া জন্ম ও স্কুল ছাড়ার সনদ তৈরি করে দেওয়া হত। এরপর তাদের মুম্বাইয়ে এনে শিবাজি নগর এলাকায় রাখত চক্রটি।
প্রত্যেক কক্ষে তিন থেকে চারজন করে থাকতেন, এবং প্রতি মাসে ‘গুরু মা’-কে দিতে হত ৫ থেকে ১০ হাজার রুপি ভাড়া। পুলিশ জানায়, তিনি মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মহাডা)-এর অধীন নিবন্ধিত ঘর ও ফ্ল্যাট দখল করে সেগুলো ভাড়া দিতেন।
এভাবে তিনি অন্তত ২০০টিরও বেশি ঘর দখল করে লাখ লাখ রুপি আয় করেছেন বলে ধারণা পুলিশের। এছাড়া পাচারকৃত কিছু মানুষকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। তাদের বিভিন্ন মহাসড়কে পাঠানো হত গ্রাহক ধরার জন্য।
মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি শুধু অবৈধ অভিবাসনের ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত মানবপাচার ও দেহব্যবসার চক্র। আমরা আরও কয়েকজন সহযোগীকে শনাক্ত করেছি।’
পুলিশের ধারণা, এই চক্রের মূল শিকড় বাংলাদেশ থেকে শুরু হয়ে মুর্শিদাবাদ হয়ে মুম্বাই পর্যন্ত বিস্তৃত। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/এন
মন্তব্য